ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা © সংগৃহীত
ইসলামাবাদে দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন তাদের ‘সেরা এবং চূড়ান্ত প্রস্তাব’ টেবিলের ওপর রেখে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই দীর্ঘ আলোচনার ফলাফলকে এভাবে বর্ণনা করেছে—এখানে কোনো ‘ব্রেকথ্রু’ বা বড় ধরনের সাফল্য আসেনি ঠিকই, কিন্তু আলোচনাটি সম্পূর্ণ ‘ব্রেকডাউন’ বা ভেঙেও যায়নি। অর্থাৎ, বড় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলেও কূটনীতির পথ এখনো রুদ্ধ হয়ে যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে মোট পাঁচ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি দফার পর উভয় পক্ষ একে অপরের সঙ্গে নোট বিনিময় করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে একটি বৃহত্তর রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করেই আলোচনা এগিয়েছে। বর্তমানে টেবিলের ওপর একটি প্রস্তাব এবং একটি পাল্টা প্রস্তাব রয়েছে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যে অনড় ও সর্বোচ্চ অবস্থান নিয়েছে, সেখান থেকে ইরান এক চুলও নড়তে রাজি নয়। এখন এই প্রস্তাবগুলোর ওপর ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
আরও পড়ুন: চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন জে ডি ভ্যান্স
ম্যারাথন এই বৈঠকে পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হওয়া ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিটি তেহরান জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আলোচনায় কিছুটা হলেও গতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। যদি আলোচনাটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার থাকতো, তবে তা অনেক আগেই ভেঙে যেতো।
অন্যদিকে, একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় ইসরায়েলের সাথে এমন একটি সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যেখানে তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমাবর্ষণ করবে না, তবে দক্ষিণাঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। যদিও এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, জে ডি ভ্যান্সের ভাষায় কোনো চুক্তি ছাড়াই তাদের ইসলামাবাদ ত্যাগ করা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হলেও এটা স্পষ্ট দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি এখনো সচল রয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, দুই পক্ষ তাদের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে খসড়াগুলো পর্যালোচনার পর পরবর্তী ধাপে কী সিদ্ধান্ত নেয়।