ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবারের মধ্যেই ইসলামাবাদের মাটিতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলে জানাগেছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে।’ সংঘাতের ভয়াবহতা আঁচ করে পেন্টাগন এরই মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের অতিরিক্ত ৩,০০০ সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের ১৫ দফার মূল শর্তগুলো হলো:
সাময়িক যুদ্ধবিরতি: শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে শুরুতে এক মাসের জন্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি পালন করতে হবে।
পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস: ইরানের নাতানজ, ইসফাহান এবং ফোর্ডও-তে অবস্থিত প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো হয় স্থায়ীভাবে বন্ধ অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে।
অস্ত্র ত্যাগ: ইরানকে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহের চেষ্টা করবে না।
ইউরেনিয়াম হস্তান্তর: বর্তমানে মজুত থাকা সকল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
কঠোর তদারকি: IAEA-কে ইরানের সকল পারমাণবিক অবকাঠামোতে নিরবচ্ছিন্ন পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
সমৃদ্ধকরণ বন্ধ: ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চিরতরে নিষিদ্ধ থাকবে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা এবং পাল্লা বা রেঞ্জের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
প্রক্সি সমর্থন বন্ধ: হিজবুল্লাহ ও হুথিসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা প্রদান বন্ধ করতে হবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ বা আঞ্চলিক স্থাপনার ওপর ইরান কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারবে না।
নৌপথ উন্মুক্ত: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য 'মুক্ত সমুদ্র অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চুক্তির শর্ত পালনের বিপরীতে ইরানের ওপর থেকে সকল মার্কিন ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থার অবসান: জাতিসংঘের যে বিধির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ থাকে, সেই ব্যবস্থার স্থায়ী বিলুপ্তি ঘটানো হবে।
বেসামরিক প্রকল্পে সহায়তা: কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে ইরানকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে প্রস্তাবটি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতর তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আল জাজিরার নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ‘পিছনের দরজার আলোচনায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-পয়েন্টের সঙ্গে একমত, তবে তারা উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প কতটা ছাড় দিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ভয় পাচ্ছে এই ১৫ পয়েন্টকে আলোচনার কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এক মাসের যুদ্ধবিরতি তার আগে হতে পারে… ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো কিছু পয়েন্ট মেনে নেবেন, কিন্তু সব নয়।’
অন্যদিকে, ইরান এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় নিজস্ব ৫ দফা দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হবে না—এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘ইরান যুদ্ধ শেষ করবে যখন তারা মনে করবে, ট্রাম্পের ইচ্ছায় নয়।’