ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত কর কমাল ট্রাম্প © সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধের বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, ভারতীয় পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, রুশ তেল কেনার কারণে গত আগস্টে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানিতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়ক হবে।’ বিপরীতে ভারত জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবা খাতে ভবিষ্যতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে অশুল্ক বাধাগুলো সরিয়ে নেবে।
বাণিজ্য তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা ক্লারের মতে, বর্তমানে ভারতের মোট তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশ (দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল) আসে রাশিয়া থেকে। ওপেকের তেলের চেয়ে রুশ তেল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৬ ডলার সাশ্রয়ী হওয়ায় এই নির্ভরতা কাটানো ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলার নাম আসলেও দেশটির বর্তমান অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ১৯৯৯ সালের আগের মতো দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন পর্যায়ে ফিরতে দেশটির অন্তত এক দশক সময় ও বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: এপস্টাইনের সেই কুখ্যাত দ্বীপে কপারফিল্ড: যৌন শিকার তালিকা ঘিরে যা বলছে এফবিআই ফাইল
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আসায় এবং ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ভারত এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। ভারতের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান বলেন, ‘তেলের দাম কমায় রাশিয়ার দেওয়া ছাড়ের সুবিধা এখন আর ততটা বড় নয়, যতটা ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের সুবিধা।’
অন্যদিকে, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প দ্রুত এই সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হন।
অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য ভারতের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মিজুহো সিকিউরিটিজের রবার্ট ইয়াওগার মনে করেন, ভারত অতীতেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ (পরিচয় গোপনকারী জাহাজ) ব্যবহার করে তেল আমদানি করেছে, যা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তবে ট্রাম্প একে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের "সীমাহীন সম্ভাবনা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে বছরে প্রায় ৯৫.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ ও পোশাক। নতুন এই ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের ফলে উভয় দেশের বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন