এপস্টাইনের সেই কুখ্যাত দ্বীপে কপারফিল্ড: যৌন শিকার তালিকা ঘিরে যা বলছে এফবিআই ফাইল

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৭ AM
ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ও ডেভিড কপারফিল্ড

ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ও ডেভিড কপারফিল্ড © সংগৃহীত

নতুন করে প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন এবং বিশ্বখ্যাত জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ডের মধ্যে একটি ‘খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০০৭ সালের একটি এফবিআই স্মারকে বলা হয়েছে, কপারফিল্ড ও এপস্টেইনের মধ্যে এমন একটি স্পষ্ট যোগসূত্র ছিল। এটি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন ছিল বিশেষ করে তারা একে অপরের কাছে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের পাঠাতেন কি না এবং উভয়েরই অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ঝোঁক ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য।

তবে ডেভিড কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং তিনি সব ধরনের অনিয়ম বা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত সর্বশেষ নথির অংশে এসব তথ্য উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালে সিয়াটলে কর্মরত এফবিআই এজেন্টরা কপারফিল্ড ও এপস্টেইনের মধ্যে একটি “স্পষ্ট সংযোগ” শনাক্ত করেছিলেন। ১২ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখের এফবিআই স্মারকে বলা হয়, এই সংযোগটি আরও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে বোঝা যায় তারা উভয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি আগ্রহ ভাগাভাগি করতেন কি না এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের একে অপরের কাছে পাঠানোর মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না।

২০০৭ সালেই কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের দুই বছরের একটি তদন্ত শুরু হয়। সিয়াটলের এক নারী লেসি ক্যারল অভিযোগ করেন, কপারফিল্ড তাকে মডেলিং ও প্রচারণামূলক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাহামাসে নিজের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘মুশা কে’-তে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেন। এই তদন্ত ২০১০ সালের জানুয়ারির দিকে বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্যারলের অভিযোগ বা অন্য কোনো যৌন অসদাচরণের ঘটনায় কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

২০১২ সালে অপরা উইনফ্রের সঙ্গে মুশা কে-তে ধারণ করা এক সাক্ষাৎকারে কপারফিল্ড দাবি করেন, তিনি ওই ঘটনায় শুধু নির্দোষই প্রমাণিত হননি, বরং নিজেই ভুক্তভোগী ছিলেন।

নতুন প্রকাশিত নথি নিয়ে কপারফিল্ডের আইনজীবীরা প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে ২০২৪ সালে কপারফিল্ডের আইনজীবীরা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘জেফ্রি এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন না’। তাদের ভাষায়, কপারফিল্ড ও এপস্টেইনের বন্ধুত্বের যে দাবি করা হয়, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং গণমাধ্যমের অপব্যাখ্যা’। তারা বলেন, দুজন সর্বোচ্চ ‘পরিচিত’ ছিলেন এবং ‘মাত্র কয়েকবার’ তাদের দেখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিয়ের দায়িত্বের আশ্বাসে কাজ, বিমানের এমডির বাসায় যেভাবে চলত নির্যাতন

কপারফিল্ড বারবার যৌন অসদাচরণ বা অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

নতুন নথিগুলোতে কপারফিল্ডকে ঘিরে এফবিআই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এবং কপারফিল্ড ও এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনার বিষয়ও উঠে এসেছে। ২০০৭ সালের ওই স্মারকে সিয়াটলের এজেন্টরা মিয়ামিতে কর্মরত সহকর্মীদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত কিছু প্রমাণ কপারফিল্ড তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তারা জানান, তদন্তে এমন ‘একাধিক সম্ভাব্য সাক্ষী’ শনাক্ত হয়েছে, যারা মিয়ামিতে বসবাস করতেন এবং কপারফিল্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন বা তার জন্য কাজ করতেন। এদের মধ্যে দুজন নারী ছিলেন, যারা এপস্টেইন তদন্তেরও সাক্ষী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের একজন দাবি করেছিলেন যে এপস্টেইন তাকে ‘গুম’ করেছিলেন।

এফবিআই এই দুই নারীর সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী ছিল, কারণ তাদের নাম কপারফিল্ডের একটি বিজনেস লিস্টে পাওয়া যায়, যা এজেন্টদের মতে ‘যৌন দখলের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নারীদের একটি সংকলন’ বলে মনে হয়। ওই তালিকায় উল্লেখ ছিল যে ওই দুই নারী ‘জেফ এপস্টেইনের অতিথি’ ছিলেন এবং সেখানে আরও লেখা ছিল, তিনি—যাকে এপস্টেইন হিসেবে ধারণা করা হয় বলেছিলেন, তাদের একজন বিশ্বস্ত নয়, খেলায় নামে না।

স্মারকে আরও বলা হয়, কপারফিল্ডের বাসভবন, গুদাম এবং লাস ভেগাসের এমজিএম গ্র্যান্ড হলিউড থিয়েটারে—যেখানে তিনি নিয়মিত পারফর্ম করেন—তল্লাশির সময় এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে, যাতে দেখা যায় কপারফিল্ড একাধিকবার এপস্টেইন ও তার অতিথিদের জন্য বিনামূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এফবিআই জানায়, তল্লাশির পর কপারফিল্ডের নথিতে একটি ১৩ বছরের ফাঁক লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়ের কোনো হার্ড কপি ফাইল পাওয়া যায়নি। এজেন্টদের মতে, এই সময়েই এপস্টেইন তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের তদন্ত সম্পর্কে অবগত হয়ে থাকতে পারেন।

এফবিআই মিয়ামিতে সাক্ষাৎকারগুলো নিতে চেয়েছিল, যাতে বোঝা যায় এপস্টেইন ও কপারফিল্ডের সম্পর্কের মধ্যে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড ছিল কি না। স্মারকে সতর্ক করে বলা হয়, এমন সম্পর্ক থাকলে এপস্টেইন তদন্তসংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালের একটি ইমেইলে সিয়াটলের তৎকালীন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি সুসান ‘সুসি’ রো—যিনি কপারফিল্ড তদন্তের প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন—ফ্লোরিডায় এপস্টেইন মামলায় যুক্ত সহকারী অ্যাটর্নি অ্যান মেরি ভিলাফানার কাছে এপস্টেইনের বিতর্কিত প্লি ডিলের কপি চান। ওই চুক্তিতে এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে পতিতাবৃত্তি প্ররোচনার একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন এবং ১৮ মাসের সাজা থেকে ১৩ মাস কারাভোগ করেন। রো জানতে চান, আপনি কি মনে করেন, তিনি কখনো কপারফিল্ডের বিষয়ে কথা বলবেন? এবং বিচার বিভাগে এমন কেউ আছেন কি না, যিনি যৌন বা সহিংস অপরাধ বিষয়ে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ।

ভিলাফানা জবাবে লেখেন, এপস্টেইন কারও সঙ্গে কথা বলবেন না এবং নিজের কোনো বন্ধুকে ফাঁস করবেন না, যদি না এতে তার বড় কোনো লাভ হয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ক্যারল কি দক্ষিণ ফ্লোরিডা হয়ে বাহামাসে গিয়েছিলেন কি না, কারণ সেক্ষেত্রে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সৃজনশীলভাবে ভাবার সুযোগ থাকতে পারে।

নথিতে আরও একটি আংশিক গোপন করা স্মারকের কথা উল্লেখ আছে, যার তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৯—এপস্টেইনের আত্মহত্যার কয়েক মাস পর। সেখানে বলা হয়, এফবিআই তদন্তে দেখা গেছে, কপারফিল্ড তার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতেন কীভাবে তার শোতে উপস্থিত কিশোরী থেকে বিশের কোঠার শুরু বয়সী তরুণীদের শনাক্ত করতে হয়। ওই নারীদের তাদের সঙ্গী, পরিবার বা স্বামীদের থেকে আলাদা করে ব্যাকস্টেজে নিয়ে যাওয়া হতো।

স্মারকে দাবি করা হয়, কর্মীদের একটি নোটবুক দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কপারফিল্ডের জন্য কীভাবে নারীদের জোগাড় করতে হবে তার নির্দেশনা ছিল। কপারফিল্ড নিজেও একটি নোটবুক রাখতেন, যাতে নারীদের যোগাযোগের তথ্য, তাদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়েছে কি না এবং ছবি সংরক্ষিত থাকত।

ওই ব্যক্তি আরও লেখেন, তিনি নিশ্চিত নন কোনো ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল কি না, তবে কিছু অভিযোগ ছিল যে কপারফিল্ড কিছু নারীর মাদক প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে এপস্টেইনের নাম একাধিকবার উঠে আসে এবং কপারফিল্ডের সঙ্গে তার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে মনে হয়।

তবে লেসি ক্যারলের আইনজীবী বেকি রো—যিনি প্রসিকিউটর সুসান রোর আত্মীয় নন গার্ডিয়ানকে বলেন, এফবিআই চেয়েছিল বিচার বিভাগ কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনুক এবং তা না হওয়ায় তারা হতাশ ছিল, যা অস্বাভাবিক নয়। 

তিনি বলেন, এফবিআই চমৎকার তদন্ত করেছিল, তবে প্রসিকিউটররা আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে ভয় পেয়েছিলেন—এই মতের সঙ্গে তিনি একমত নন। তার মতে, বিচারিক এখতিয়ার–সংক্রান্ত জটিলতাই অভিযোগ না আনার প্রধান কারণ ছিল।

গার্ডিয়ান ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, অন্তত ১৬ নারী কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণ ও অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ এনেছিলেন, যার মধ্যে তিনজন দাবি করেছিলেন, তিনি তাদের মাদক প্রয়োগ করেছিলেন। কপারফিল্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত আরেক দফা এপস্টেইন নথিতে এমন কিছু ছবি প্রকাশ পায়, যেখানে কপারফিল্ড ও ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে সাদা পোশাকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। ছবিগুলোর তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এসব ছবি বা কপারফিল্ডের ওই দ্বীপে অবস্থান নিয়ে তার আইনজীবীরা কোনো মন্তব্য করেননি।

সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ২০১৫ সালের একটি ইমেইলের কথাও রয়েছে, যেখানে এপস্টেইন ও ‘নাদিয়া’ নামের এক নারীর কথোপকথনে কপারফিল্ডের দ্বীপ মুশা কে-এর একটি লিংক পাঠানো হয়। সেখানে নাদিয়া জানতে চান, ‘সে কবে এটি পেল?’ জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমি তাকে বলার পর।’ কপারফিল্ড ক্যারলের ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যানারে আগুন, প্রতিনিধির ওপর হামলা
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রুশ তেল কিনবে না ভারত, পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্ত ট্র…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এপস্টাইনের সেই কুখ্যাত দ্বীপে কপারফিল্ড: যৌন শিকার তালিকা ঘ…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে জামায়াত আমিরের জনসভা মঙ্গলবার
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুনলেন তরুণদের প্রত্যাশা-স্বপ্নের কথা, গুরুত্ব দিলেন নারীদে…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬