বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের আকস্মিকভাবে পরিবর্তন 'অত্যন্ত বিরল এবং শিষ্টাচার পরিপন্থী': ইউটিএল

১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:০৪ PM
ইউটিএলের লোগো

ইউটিএলের লোগো © টিডিসি ফটো

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের আকস্মিকভাবে পরিবর্তনের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিরল এবং শিষ্টাচার পরিপন্থী ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটি বলছে, কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আজ ১৭ মার্চ এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যোবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণকে আকস্মিকভাবে পরিবর্তন করার ঘটনা আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি। কেন এবং কী প্রেক্ষাপটে রাতারাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যগণের নিয়োগ বাতিল করে নতুনদের নিয়োগ দেয়া হলো তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একই সাথে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং শিষ্টাচার পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে। সরকারের অতি উৎসাহী এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষকগণ ও গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক বলে আমরা মনে করি।'

নেতৃবৃন্দ বলেন, 'পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে যোগ্য অধ্যাপকদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই এই উপাচার্য নিয়োগ প্রদান করেছিল। কিন্তু সরকার বিদ্যমান উপাচার্যদের সঙ্গে কোনো পূর্ব-আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না মেনেই প্রথমে ঘোষণা ও পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের অপসারণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক রীতি ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী। একজন শিক্ষক তার পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে উপাচার্যের পদ অলংকৃত করেন। অথচ যথাযথ সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দায়িত্বরত অবস্থায় নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরায়ত শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে; বিশেষত ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের আওতার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যগণ সাধারণত চার বছরের জন্য চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই মেয়াদে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এইভাবে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। '

তারা আরও বলেন, 'আমরা মনে করি, সরকাররের পক্ষ থেকে উপাচার্য নিয়োগ একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ। তবে এই নিয়োগ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম, শালীনতা ও একাডেমিক সংস্কৃতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশকে ঘিরে দেশবাসীর যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এই ধরনের সিদ্ধান্ত তা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরকার যদি একতরফাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদে ইচ্ছামতো কাউকে অব্যাহতি অথবা দলীয় বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ দেয়, তবে তা দেশের উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে কেবল ব্যাহতই করবেনা একই সাথে একাডেমিয়াতে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করবে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'

ভোলায় ৮৯০ লিটার ডিজেল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫০ হাজার
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় ৫ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকা …
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি প্রাথমিকে মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীরা পেল ‘পঁচা’ বনরুটি
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে এনসিপি নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদ
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
close