বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্র © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা (রেসিপ্রোকাল) শুল্কহার নির্ধারণে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখে তা স্বাক্ষরের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ থাকলেও এই চুক্তির ফলে তা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সচিব।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আগামী কয়েক বছরে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গম, তুলা ও এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি। সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশে একই আছে। আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে। সে ধরনের একটা ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তিতে বেসামরিক উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ ‘যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যুটা কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।’
উন্নত দেশ হিসেবে উত্তরণের পর শুল্ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ করছে। সচিব জানান, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও এ বছরই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এফটিএ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তৈরি পোশাক খাতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করেছি গত ৪৫ বছর ধরে এবং আমরা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আমাদের আছে তৈরি পোশাক খাতে। এটা বুঝতে হবে- এখন এই সক্ষমতা আরেকজন ওভারনাইট অর্জন করে ফেলেছে, এটা আমাদের কাছে মনে হয় না।’
রপ্তানিতে সাম্প্রতিক নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সচিব জানান, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল। এছাড়া আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার কৌশলই ৯ ফেব্রুয়ারির এই চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।