ইরানের আকাশসীমা বন্ধ © টিডিসি ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। অনেক সংস্থাকে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, আবার অনেককে আকাশপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ইরানের একটি নোটিশ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট থেকে বন্ধ থাকবে। প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দুই ঘণ্টার জন্য বলবৎ থাকার কথা জানানো হয়। ফ্লাইট পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার ২৪' জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইরানের আকাশে চীন ও ইরানের মধ্যে যাতায়াতকারী ‘মাহান এয়ার’-এর দুটি উড়োজাহাজ ছাড়া আর কোনো বেসামরিক বিমান দেখা যায়নি।
বর্তমানে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মার্কিন হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায় তবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতের ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় তাদের ফ্লাইটগুলো বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে। এমনকি রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের একটি বিমান তেহরানের পথে রওনা দিয়েও মাঝপথ থেকে মস্কোতে ফিরে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানির লুফথানসা ও ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজ বর্তমানে ইরান ও ইরাকের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে এবং তেল আবিব ও আম্মানে রাতের পরিবর্তে দিনে ফ্লাইট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।