মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করে বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্রেন্ট) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। তবে পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া ‘অ-অভিবাসী’ (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসাগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, অভিবাসন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই ৭৫টি দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর সে দেশের জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা বা ওয়েলফেয়ারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা মার্কিন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। স্থগিত থাকাকালীন পররাষ্ট্র দপ্তর এই দেশগুলোর ভিসা স্ক্রিনিং পদ্ধতি পুনরায় যাচাই করবে যাতে করে যারা ‘পাবলিক চার্জ’ হতে পারে, তাদের প্রবেশ ঠেকানো যায়।
এই স্থগিতাদেশের আওতায় রয়েছে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য পারিবারিক স্পনসরশিপের মতো স্থায়ী বসবাসের ভিসা। তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, রাশিয়া, মিশর, হাইতি, সোমালিয়া, ইরান ও ইরাক।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
তবে পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া ‘অ-অভিবাসী’ ভিসাগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। ফলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে যেতে ইচ্ছুক পর্যটকদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়াও উচ্চশিক্ষার জন্য যারা আবেদন করেছেন, তাদের ভিসা প্রক্রিয়াও এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহণ করেছেন। গত বছর পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে এবং এইচ-১বি (H-1B) ভিসার মতো দক্ষ কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও উচ্চমূল্যের ফি নির্ধারণ করেছে। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী এক বছরে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন কড়াকড়ি।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হতে পারছে যে নতুন অভিবাসীরা আমেরিকার জনগণের সম্পদের অপব্যবহার করবে না, ততক্ষণ এই ‘ভিসা ফ্রিজ’ বা স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।