দুই ছাত্রনেতা © সংগৃহীত
বিনাবিচারে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী ভারতের আলোচিত দুই ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। তবে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য পাঁচ কর্মীকে জামিন দিয়েছে আদালত।
সোমবার সকালে দুই বিচারপতির বেঞ্চ তাদের আদেশে জানান, সাতজন আসামির জামিন আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। লিগ্যাল ওয়েবসাইট 'বার অ্যান্ড বেঞ্চ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকরা মন্তব্য করেন যে—অপরাধের মাত্রার দিক থেকে অভিযুক্ত সবাই সমান অবস্থানে নেই। উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অন্যদের চেয়ে ‘আলাদা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত তাদের জামিন নাকচ করেন। তবে জানানো হয়েছে, এক বছর পর তারা আবারও জামিনের আবেদন করতে পারবেন।
২০২০ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় দিল্লি দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৭ বছর বয়সী উমর খালিদ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং শারজিল ইমামও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল স্কলার ছিলেন। গত পাঁচ বছরে উমর খালিদের জামিন আবেদন অন্তত পাঁচবার এবং শারজিল ইমামের আবেদন অন্তত দুবার খারিজ হয়েছে। অভিযুক্তরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের আটকে রাখা হয়েছে যা কার্যত 'বিচার ছাড়াই শাস্তি' দেওয়ার শামিল।
আদালত যে পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন তারা হলেন, গুলফিশা ফাতিমা, মিরান হায়দার, মো. সেলিম খান, শাদাব আহমেদ এবং শিফা-উর-রহমান। ৩২ বছর বয়সী গুলফিশা ফাতিমা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। অন্যরা মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
এই ছাত্রনেতাদের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে ভারত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ২০২২ সালে ভারতের সাবেক বিচারপতি ও আমলাদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি রিপোর্টে জানায়, এই কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের একদল সদস্য ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই কর্মীদের 'বিচারহীন দীর্ঘ আটকাবস্থা' নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।