শিগগিরই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে: ট্রাম্প

১০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ AM , আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © ফাইল ছবি

ইরানে এরইমধ্যে ‘অনেকভাবে জয়ী হয়েছে’ যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তা ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া থেকে শুরু করে রিপাবলিকান সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়া এবং আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং– সবখানেই ইরানকে নিয়ে মন্তব্য করতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

এ পর্যন্ত ট্রাম্প অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ বা ইরান অভিযান নিয়ে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে তেমন বিশদ কিছু জানাননি। তবে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতির অগ্রগতিতে তিনি স্পষ্টতই সন্তুষ্ট—মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও এ পর্যন্ত তাদের সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমাদের ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে আমরা শত্রুকে চূর্ণ করছি—প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সামরিক শক্তির এক অভাবনীয় প্রদর্শনের মাধ্যমে।’

মার্কিন সেনাবাহিনীর ইরানে অভিযান কতদিন চলবে—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ অভিযান শিগগির শেষ হবে, তবে এই সপ্তাহে নয়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শিগগিরই। ইরানের যা কিছু ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, তাদের নেতৃত্বসহ। যাকে (আয়াতুল্লার স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে তারা বলছে, অধিকাংশ মানুষ তার নামই শোনেনি।’

একইসঙ্গে তিনি এটাও বলেন, ইরানে ‘যথেষ্ট জয়’ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফ্লোরিডায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে এটাও বলেন, ‘যুদ্ধ খুবই পূর্ণাঙ্গ, প্রায় শেষের দিকে। আমরা একটি ছোট্ট অভিযান চালিয়েছি, কারণ কিছু খারাপ জিনিস সরিয়ে ফেলতে আমাদের তা করতে হয়েছে। তারপর আপনারা দেখবেন, এটি খুব স্বল্পমেয়াদি অভিযান হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেকভাবে ইতোমধ্যেই জয়ী হয়েছি, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমরা আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের দিকে—যা এই দীর্ঘস্থায়ী হুমকির চিরসমাপ্তি ঘটাবে।’ ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার কথাও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘সে বেঁচে থাকলে তারা আরও অনেক বেশি সক্ষম হতে পারত। কারণ তারা সক্ষম ছিল—নিষ্ঠুর, হিংস্র এবং সক্ষম। কিন্তু আমরা প্রথমেই তাকে সরিয়ে দিয়েছিলাম।’ ইরানে নেতৃত্ব পবির্তনের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে কাকে ক্ষমতায় আনতে চান, সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি আগে।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, যেই তার স্থলাভিষিক্ত হবে তাকেই টার্গেট করা হবে। গতকাল ট্রাম্প বলেন, ‘এখন কেউই ধারণা করতে পারছে না, দেশটিতে (ইরানে) কারা নেতৃত্বে আসছে’—এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করছেন সম্ভবত, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কিংবা বিমান হামলা কিছুটা শিথিল করতে ইচ্ছুক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় তার দল রিপাবলিকান পার্টির একটি সম্মেলনে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে তিনি তার এজেন্ডা থেকে এক ধরনের ‘ছোট্ট অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো-

ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানে প্রথম হামলার নির্দেশ দেন কারণ এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা (ইরান) যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল। তাদের কাছে এত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা কেউ ভাবেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও নৌবাহিনীর ৮০ শতাংশ ধ্বংস করেছে। তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বিজয় অর্জন করলেও সামনে আরও অর্জন বাকি আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকভাবে ইতোমধ্যেই জয়ী হয়েছি, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমরা আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগোবো—চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য, যা এই দীর্ঘস্থায়ী হুমকির চিরসমাপ্তি ঘটাবে।’ তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধ অর্থনীতিতে কিছু প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার, যা নিচে নেমেছে, ‘এখন আমরা যে কাজ করছি তা শেষ হলেই অনেক বেশি ওপরে উঠবেৃ আমাদের সত্যি কোনো বিকল্প ছিল না।’

আরও পড়ুন: কারণে-অকারণে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অপূরণীয় ক্ষতি পোষাবে কে?

রিপাবলিকানদের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলেন। সেখানে তিনি শুরুতেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং মিশন ‘প্রায় সম্পূর্ণ’। ইরানের ‘প্রতিটি বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছি’ মন্তব্য করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন তৈরির কেন্দ্র, ইরানের নৌক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মূল স্থাপনাগুলো। তিনি বলেন, ‘তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন প্রায় ১০ শতাংশ অথবা তারও কম’।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার বিষয়ে ইরানকে প্রেসিডেন্টকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ‘যদি ইরান এমন কিছু করে যা হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে তারা এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত পেয়েছে তার চেয়ে বিশ গুণ বেশি আঘাত পাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে’, একটি অনলাইন বিবৃতিতে তিনি বলেছেন।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে যায় এবং যুদ্ধের ফলে সমুদ্র পরিবহন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এছাড়াও, আমরা সহজেই ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করব যার ফলে ইরানের পক্ষে আবারও একটি জাতি হিসেবে গড়ে ওঠা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে - মৃত্যু, আগুন এবং ক্রোধ তাদের ওপর রাজত্ব করবে। তবে আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে, এটি যেন না ঘটে!’

এদিকে, যুদ্ধ ‘শিগগিরই শেষ হবে’ ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতের পর তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার সকালে এশিয়ায় লেনদেনে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট প্রায় সাড়ে আট শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৫০ ডলার হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্যের তেলও প্রায় নয় শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৮০ ডলার হয়েছে প্রতি ব্যারেল। তবে সংঘাতের শুরুর তুলনায় দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। খবর: বিবিসি বাংলা।

ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন পরীক…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প বললেন— যুদ্ধের শেষ দিকে পৌঁছেছি’, উল্টো কথা বলছে ইর…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থীদের অনুদান দেব…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
মতলবে ২০ দিনে ৭ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, জনমনে আতঙ্ক
  • ১০ মার্চ ২০২৬
মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালকদের বড় সুখবর দিল বিপিসি
  • ১০ মার্চ ২০২৬
সাভারে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে ৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার 
  • ১০ মার্চ ২০২৬
close