অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের দিন ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হওয়ার শঙ্কা
মিমিক্রি করছেন চাকসু ভিপি © টিডিসি সম্পাদিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহীম রনির পুরোনো একটি মিমিক্রি নিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে ডিপার্টমেন্টের একটি অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে এই স্টেজ পারফরমেন্সটি করেছিলেন ইব্রাহীম রনি। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সারাদিন এই মিমিক্রির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একযোগে শেয়ার করে তীব্র সমালোচনার পর আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রেস ব্রিফিং ডেকেছে ছাত্রদল।
একই দিন অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর, প্রতিনিধি সম্মেলন ও জাতীয় রিসার্চ ফেস্টসহ বেশ কিছু পূর্বঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে চাকসুর। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সোমবার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে ইব্রাহীম রনির মিমিক্রির একটি অংশ শেয়ার করেন চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন। এরপর একযোগে এই ভিডিওটি শেয়ার করতে শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, চাকসু ভিপি ইব্রাহীম রনি বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে বলছেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।’ তার এই অনুকরণে হলজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের বার্ষিক শিক্ষা সফরের অনুষ্ঠানে এই মিমিক্রি করেছিলেন ইব্রাহীম রনি। ওই সময় তিনি জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীদের কণ্ঠ ও কথা বলার ধরন অনুকরণ করেন।
এদিকে মিমিক্রির সময় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে তার পোস্টে আলাউদ্দিন মহসিন লিখেছেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নিজেদের অধিকার ও ন্যায়ের দাবিতে সোচ্চার, ঠিক তখন পর্দার আড়ালে বা গুপ্ত স্থান থেকে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে—তা আজ আর অজানা নয়। ২০২০ সালের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) ভিপি এবং চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে পবিত্র ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নিয়ে ব্যঙ্গ করা এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যঙ্গ করে বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।’
পোস্টে পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করেন আলাউদ্দিন মহসিন। তিনি লিখেছেন, ‘পবিত্র বাণী ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উপহাস এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করার বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে ইরশাদ করেছেন—হে ঈমানদারগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম...(সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১১)।’
এদিকে রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ, সুপারিশের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অবৈধ আসন বাতিল, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা এবং পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন।
একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে চাকসু ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি কতৃক পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপের প্রতিবাদে চবি ছাত্রদলের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই কাটছাট করা ভিডিও ছড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন চাকসু ভিপি ইব্রাহীম রনি। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আগামীকালের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ০৬ বছর পূর্বে আমার অভিনীত একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে ছাত্রদল নানামুখী ষড়যন্ত্রের চেষ্টায় লিপ্ত।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ঘটনাটি ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত আমার ডিপার্টমেন্টের (ইতিহাস বিভাগ, চবি) বার্ষিক শিক্ষা সফরের। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ ও অনার্স-মাস্টার্সের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ভাই-বোনেরা। অনুষ্ঠানের অভিনয় পর্বে হানিফ সংকেত, বেগম খালেদা জিয়া, ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীদের কথা বলার ধরন অনুকরণ করে অভিনয় করেছিলাম। সেটি ছিল একটি বিনোদনমূলক পরিবেশনা, কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রকাশের উদ্দেশ্যে নয়। অথচ এই মিমিক্রি ভিডিও থেকে শুধু মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অংশটুকু কেটে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলাচ্ছে ছাত্রদল।’
ইব্রাহীম রনি লিখেছেন, ‘উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় ছাড়া কিছুই নয়। আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টাই যেন তাদের একমাত্র কর্মসূচি। আগামীকাল চাকসুর অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর প্রোগ্রাম, প্রতিনিধি সম্মেলন ও জাতীয় রিসার্চ ফেস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অপপ্রচার করে আমাদের পথচলা কেউ থামাতে পরেনি, পারবে না। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের কাজ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’