চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ছেলে ভর্তি পরীক্ষার্থী, কোর কমিটিতে ডিন বাবা

০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ PM , আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ PM
 মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন

মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন © টিডিসি ফটো

সন্তান ভর্তি পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি একপ্রকার গোপন রেখেই ভর্তি পরীক্ষার সকল দায়িত্ব পালন করেছেন বাবা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ঘটনায় ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের নিজের সন্তান সাকিব হোসেন এবারের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেরিন সায়েন্সের ২০৪ নম্বর রুমে অংশগ্রহণ করেন। গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে সাকিব হোসেন মেধাতালিকায় ১৬ হাজারতম অবস্থানের আশেপাশে রয়েছেন।

অধ্যাপক শাহাদাত ডিন হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন বিষয়টি গোপন রেখেই। এছাড়াও তিনি ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল তৈরি ও প্রকাশের জন্য ফলাফল তৈরি উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি তাঁর নিজ সন্তান, ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করবেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিট কো-অর্ডিনেটরকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাবেন। তবে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি বলে জানিয়েছেন 'এ' ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। 

কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, ছাপানো বিতরণ ও ফলাফল প্রস্তুতের দায়িত্ব ডিনদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই পাঁচটি ধাপ সবচেয়ে গোপনীয় ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত। মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন হিসেবে এসব দায়িত্ব অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ওপরও অর্পিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোর কমিটির কোনো সদস্যের নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কো-অর্ডিনেটরকে লিখিতভাবে জানিয়ে নিজেকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে নেবেন। 

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ঘটনাটি দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এটি একটি গুরুতর অনিয়ম, যা কার্যত জালিয়াতির শামিল। একজন ডিন হিসেবে তিনি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন টাইপিং থেকে শুরু করে ফলাফল প্রস্তুত—সব পর্যায়ের কাজেই সমন্বয় করে থাকেন। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এমনকি বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ২১ জন বিভাগের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। ওই শিক্ষক আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন টাইপিং সাধারণত চারজন ডিন সম্মিলিতভাবে করে থাকেন। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের কাজ যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী করতেন, তাহলে তাঁর চাকরি চলে যেত। এই ঘটনার পর একজন ডিন হিসেবে দায়িত্বে থাকার নৈতিকতা তিনি হারিয়েছেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একই ধরনের একটি ঘটনায় পুরো ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় নিতে বাধ্য হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, যদি তাঁর কোনো উদ্দেশ্য না থাকত, তাহলে তিনি আগেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত।

জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে নিজের সন্তান 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় পদার্থবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম নিজেকে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর আগেও একই কারণে অনেক শিক্ষক পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। 

গত ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) চবির ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিটের অধীনে রয়েছে বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ এবং মেরিন সাইন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ। এসব অনুষদের ডিন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিদের নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটি গঠন করা হয়। কোর কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চবি উপাচার্য এবং কো-অর্ডিনেটর ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার ছেলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবিষয়ে জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ওনি (অধ্যাপক শাহাদাত) জানাননি। গত ৬ জানুয়ারি রেজাল্ট প্রকাশের দিন কথাপ্রসঙ্গে তিনি এটি মৌলিখভাবে আমাকে জানান। আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরীও বলেন, তিনি প্রশ্ন সংক্রান্ত কোনো কাজে জড়িত ছিলেন না এবং ওই সময় তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, এখন সংশ্লিষ্টরা যদি দাবি করেন যে তিনি প্রশ্ন প্রণয়নের বা এসব কোনো কাজে উপস্থিত ছিলেন না, তাহলে ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত

নিজের সন্তান পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো নিয়ে কোর কমিটির ডিন ও বিভাগীয় সভাপতিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। গত ৬ জানুয়ারি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে ডাকা এক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই বৈঠকে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেসব বিধিমালা অনুসরণ করা হয়, ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনো শিক্ষকের নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে তাঁকে পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো রেজিস্ট্রার ও ওই ইউনিটের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যারা জড়িত তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমি সাংবাদিক ও সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে, আমরা বিষয়টি জানবো।  

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
রমজানে মা-বোনদের ওপর হামলা কাপুরুষোচিত: মহিলা জামায়াত
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
বৃষ্টি নিয়ে ৫ দিনের পূর্বাভাস জানাল আবহাওয়া অফিস অধিদপ্তর
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
ক্রিস্টাল আইস তৈরির কাঁচামালসহ নারী আটক
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানটিতে ছিল না ইজেকশন সিট
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
বর-কনেসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081