বাংলাদেশিদের বুদ্ধিমত্তা কম © সংগৃহীত
রসিকতার ছলে অনেকেই বলে থাকেন বাংলাদেশিদের আইকিউ কম বা দেশের মানুষের বুদ্ধি কম। তবে বাস্তবে বাংলাদেশিদের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ কত, কীভাবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়—সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই।
ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট বা আইকিউ বলতে মূলত বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার ফলাফলকে বোঝায়। বাংলায় এর সহজ অর্থ ‘বুদ্ধিমাত্রা’। আইকিউ পরিমাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি থাকলেও এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক সূত্র নেই। সাধারণত মানুষের বিচক্ষণতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে আইকিউ নির্ধারণ করা হয়।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আইকিউ নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। ১৯৯টি দেশের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিন-এর পরিচালিত কিছু সুপরিচিত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে।
সবশেষ ২০২২ সালে প্রকাশিত এই তালিকায় দেশভিত্তিক গড় আইকিউয়ের পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্স ক্যাপিটাল ইনডেক্স (আইসিআই) এবং প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (পিআইএসএ) স্কোরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রকাশের পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তালিকায় দেখা যায়, ১০৬.৪৮ আইকিউ স্কোর নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জাপান। মাত্র ০.০১ পয়েন্ট ব্যবধানে ১০৬.৪৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাইওয়ান। আর ১০৫.৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির তালিকায় নিল অস্ট্রেলিয়া, যাচাই হতে পারে যেসব নথি
শীর্ষ ছয়টি দেশের মধ্যেই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। ১০৫.৩৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হংকং, ১০৪.১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে চীন, এবং ১০২.৩৫ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
সপ্তম স্থান থেকে তালিকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি শুরু হয়। ১০১.৬ স্কোর নিয়ে বেলারুশ সপ্তম এবং ১০১.২ স্কোর নিয়ে ফিনল্যান্ড অষ্টম স্থানে রয়েছে। ক্ষুদ্র ইউরোপীয় রাষ্ট্র লিচেনস্টাইন ১০১.০৭ স্কোর নিয়ে নবম এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ জার্মানি ১০০.৭৪ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে অবস্থান করছে।
তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে প্রথম ছয়টিই এশীয় দেশ এবং বাকি চারটি ইউরোপীয় দেশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো—এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কেউই প্রথম দশে স্থান পায়নি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পিছিয়ে। ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। বাংলাদেশের গড় আইকিউ স্কোর ৭৪.৩৩। একই তালিকায় ভারত রয়েছে ১৪৩তম স্থানে, তাদের গড় আইকিউ ৭৬.৭৪। আর ৮০ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান আছে ১২০তম অবস্থানে।
দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ আফগানিস্তানও গড় আইকিউয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ৮২ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১০৩তম।
তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। দেশটির গড় আইকিউ স্কোর মাত্র ৪২.৯৯, যা তালিকায় সবচেয়ে কম। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষে থাকা জাপানের স্কোর ১০৬.৪৮।
ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা এশীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিয়ানমার ৫২তম (স্কোর ৯১.১৮), ইরাক ৬১তম (স্কোর ৮৯.২৮), থাইল্যান্ড ৬৪তম (স্কোর ৮৮.৮৭), ভুটান ৬৮তম (স্কোর ৮৭.৯৪), শ্রীলঙ্কা ৭১তম (স্কোর ৮৮.৬২), মালয়েশিয়া ৭৩তম (স্কোর ৮৭.৫৮) এবং আফগানিস্তান ১০৩তম (স্কোর ৮২.১২)।
বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২৯তম স্থানে (স্কোর ৯৭.৪৩), রাশিয়া ৩৫তম (স্কোর ৯৬.২৯) এবং ইউক্রেন ৫৭তম স্থানে রয়েছে, যার গড় আইকিউ স্কোর ৯০.০৭।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে আইকিউ স্কোর ৮৫ থেকে ১১৫ হলে তাকে গড় বা স্বাভাবিক বুদ্ধিমাত্রা হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৩০ হলে সেই ব্যক্তি সাধারণের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হন। আর যদি আইকিউ স্কোর ১৬০ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে এক কথায় ‘জিনিয়াস’ বলা হয়।