জাতিসংঘের এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপে স্বীকৃতি পেলেন ড্যাফোডিল শিক্ষার্থী

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০২ AM , আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ AM
এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ পুরষ্কার তুলে নিচ্ছেন ড্যাফোডিল শিক্ষার্থী লিটন

এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ পুরষ্কার তুলে নিচ্ছেন ড্যাফোডিল শিক্ষার্থী লিটন © সংগৃহীত

মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) একটি মডেল দিয়ে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার ভারতীয় কোয়ান্টাম প্রকল্পকে ছাড়িয়ে গেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী। জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক এসডিজি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি মিলেছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল ইসলাম নোহানের তৈরি স্বল্প ব্যয়ের এআই-ভিত্তিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিং মডেলটি গত ২৮ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমুণ্ডুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন চ্যাম্পিয়নশিপে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।

নোহানের পুরস্কৃত গবেষণাপত্র ‘$46 AI Model Beats $46M Quantum Project of India: An AI-Driven Scalable Quantum Circuit Simulation Framework Capable of Emulating 100+ Qubits’ একটি সফটওয়্যারকেন্দ্রিক পদ্ধতি উপস্থাপন করে, যা দেখায়- কীভাবে বুদ্ধিমান AI সিস্টেম কম খরচে এবং কম শক্তি খরচে জটিল কোয়ান্টাম আচরণ অনুকরণ করতে পারে।

‘যখন কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের আলোচনা হয়, সেখানে সাধারণত কোটি কোটি টাকার ল্যাবরেটরি, জাতীয় প্রোগ্রাম এবং এমন হাই-এন্ড হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সম্পর্কিত আলাপ চলে আসে। যা বিশ্বের খুব কম প্রতিষ্ঠানই ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কি হবে যদি কোয়ান্টামের মতো কম্পিউটেশন শুধুমাত্র ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার নয়, সফটওয়ারের মাধ্যমে সম্ভব হতো?’ এই ধারণার ভিত্তিতেই কাজ শুরু করেন আলাদিন এআইয়ের লিড টেকনোলজিস্ট এমডি ওয়ালিউল ইসলাম নোহান।

গবেষণার শুরুটা কোনো প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন থেকে। পদার্থবিজ্ঞান ও মলিকুলার বায়োলজি–সংক্রান্ত ডেটা নির্ভর সমস্যায় কাজ করতে গিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সীমিত সম্পদের সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। ব্যয়বহুল কোয়ান্টাম সুবিধার পরিবর্তে তিনি পরীক্ষা শুরু করেন—এআই মডেল দিয়ে কি নির্ভুলভাবে কোয়ান্টাম সার্কিটের আচরণ অনুকরণ করা যায় কি না।

এই প্রাথমিক পরীক্ষার ফলেই তৈরি হয় একটি স্কেলেবল ফ্রেমওয়ার্ক, যা শোরের অ্যালগরিদম ও কোয়ান্টাম ফেজ এস্টিমেশনসহ বিভিন্ন প্রসেস চালাতে সক্ষম এবং ১০০টির বেশি কিউবিট অনুকরণ করতে পারে।

এ বিষয়ে নোহান বলেন, ‘এই কাজটি কৌতূহল থেকে শুরু হয়েছিল, প্রতিযোগিতা থেকে নয়। আমি দেখাতে চেয়েছিলাম যে, যদি আমরা দক্ষতার দিকে মনোযোগ দিই, তাহলে বুদ্ধিমান সিস্টেম কতটা এগোতে পারে।’

বিশ্বজুড়ে যেখানে এআই উন্নয়ন মানেই বড় মডেল, বিশাল কম্পিউটেশনাল শক্তি ও ডেটা সেন্টার, সেখানে নোহানের কাজ ভিন্ন পথ দেখায়। তার তৈরি ফ্রেমওয়ার্ক হার্ডওয়্যার নির্ভরতা কমিয়ে অ্যালগরিদমের দক্ষতা ও বুদ্ধিমান অ্যাপ্রক্সিমেশনের ওপর গুরুত্ব দেয়। ফলে শক্তি ব্যয় ও অবকাঠামোগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

যদিও এটি বাস্তব কোয়ান্টাম প্রসেসরের বিকল্প নয়, তবে শিক্ষা, প্রাথমিক গবেষণা এবং উন্নত হার্ডওয়্যার সুবিধাবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ‘কম দিয়ে বেশি করা’ দর্শন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা—গুণগত শিক্ষা (এসডিজি৪), শিল্প ও উদ্ভাবন (এসডিজি৯), অসমতা হ্রাস (এসডিজি১০) এবং জলবায়ু সচেতনতা (এসডিজি১৩)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নোহান সাত বছরের বেশি সময় ধরে আইটি খাতে এআই ইঞ্জিনিয়ার, টেক লিড ও প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। নাসা স্পেস চ্যালেঞ্জ, জাতীয় রোবোটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপসহ বিভিন্ন হ্যাকাথনে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক সদস্য নিয়ে একটি ডেভেলপার কমিউনিটি গড়ে তুলে তরুণ প্রকৌশলীদের প্রকল্পভিত্তিক কাজে যুক্ত করেছেন।

এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বর্তমানে আলাদিন এআইয়ের লিড টেকনোলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য—দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সর্বজনীন এআই তৈরি, যা ভারী কম্পিউটেশন ছাড়াই সাধারণ সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারযোগ্য।

বাংলাদেশে গবেষণাভিত্তিক স্টার্টআপে বিনিয়োগের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে নোহান বলেন,
‘যদি বিনিয়োগকারীরা এআই ও গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেন, তবে বাংলাদেশ আইটি সার্ভিসের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিজস্ব, বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে। এআই-সক্ষম প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ আরও দক্ষ করা সম্ভব, যা একদিকে খরচ কমাবে, অন্যদিকে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।’

নিজের অনুভূতি জানিয়ে নোহান বলেন, ‘আমরা সবসময়ই চেয়েছি বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিকভাবে আরও ভালো করে। কিন্তু অবকাঠামোর পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও উদ্ভাবনই এমন একটি শক্তি, যা সত্যিকার অর্থে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এবং আমাদের বিশ্বমানচিত্রে একটি দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।’

ওয়ালিউল ইসলাম নোহান যশোর জেলার শালিখা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও মাহমুদা খাতুন দম্পতির বড় সন্তান। তার বাবা একজন চাকরিজীবী এবং মা একজন গৃহিণী। তিনি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বনশ্রী এলাকায় বসবাস করছেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ বাম নেতাদের সাক্ষাৎ
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
পে স্কেল নিয়ে এবার তারেক রহমানের সঙ্গে বসছেন সরকারি কর্মচার…
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরানোর প্রক্রিয়া শুরু, ক্ষতি…
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপের নতুন সূচি তৈরি করছে আইসিসি!
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশাসন বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে, এগুলো দেখতে চাই না
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন কে এম …
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬