অতিরিক্ত ইয়ারবাডের ব্যবহার:নিজের অজান্তেই যে ঝুঁকি ডেকে আনছেন

ইয়ারবাড
ইয়ারবাড  © সংগৃহীত

প্রযুক্তি আর বিনোদনের হাতছানি আমাদের জীবনে ইয়ারবাডকে করে তুলেছে অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। যাতায়াতের সময় গান শোনা, অনলাইন ক্লাস, অফিস মিটিং কিংবা অবসরের মুহূর্ত—সবখানেই কানে ইয়ারবাড। তবে স্বস্তির এই যন্ত্রই যদি একসময় শ্রবণশক্তি কেড়ে নেয়? চিকিৎসক ও গবেষকরা বারবার সতর্ক করছেন, অযত্নে ও অতিরিক্ত ব্যবহারে ইয়ারবাড দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উচ্চ ভলিউমে স্থায়ী ক্ষতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য বলছে, সাধারণত মানুষের নিরাপদ শ্রবণসীমা ৬০–৬৫ ডেসিবেল (dB)। কিন্তু ইয়ারবাড ব্যবহার করলে সহজেই শব্দস্তর ৮০–৯০ ডেসিবেল ছুঁয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শব্দ ৮৫ ডেসিবেল–এর বেশি হয় এবং একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি শোনা হয়, তবে তা কানের ভেতরের সংবেদনশীল সেলগুলো নষ্ট করে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হ্রাস ঘটাতে পারে। কিছু ইয়ারবাডে শব্দের মাত্রা ১০০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়, যা আরও বিপজ্জনক।

পুনের চিকিৎসক ডা. মুরারজি ঘাডগে জানান, ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে Noise-induced hearing loss (NIHL) এর দিকে ঠেলে দেয়। প্রথমে টের পাওয়া না গেলেও সময়ের সঙ্গে দেখা দেয় কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, গুঞ্জন, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বোঝার অসুবিধা ইত্যাদি।

সংক্রমণ ও ব্লকেজ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারবাড দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে কানের ভেতরে বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়। এতে আর্দ্রতা ও ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণ ঘটতে পারে। একইসঙ্গে ইয়ারওয়াক্স ভেতরে ঠেলে গিয়ে সাময়িকভাবে শ্রবণশক্তি ব্লক হয়ে যেতে পারে।

নিরাপদ ব্যবহারের উপায়

  • ৬০/৬০ নিয়ম মানুন: সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি নয় এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার নয়।
  • নয়েজ-ক্যানসেলিং ইয়ারবাড ব্যবহার করুন, যাতে কম ভলিউমেও স্পষ্ট শোনা যায়।
  • বিরতি নিন: প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫–১০ মিনিট কানের বিশ্রাম দিন।
  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: নিয়মিত ইয়ারবাড পরিষ্কার করুন।
  • সম্ভব হলে ওভার-দ্য-ইয়ার হেডফোন ব্যবহার করুন, যাতে কানের ভেতরে চাপ কম পড়ে।

সংবাদসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


সর্বশেষ সংবাদ

×
  • Application Deadline
  • December 17, 2025
  • Admission Test
  • December 19, 2025
APPLY
NOW!
GRADUATE ADMISSION
SPRING 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence