গবেষণা
প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে তুললেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সম্প্রতি এমনটাই উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-এর এক গবেষণায়।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন এমআইটির একদল গবেষক, যেখানে মোট ৫৪ জন অংশগ্রহণকারীকে তিনটি ভিন্ন দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দল লেখার কাজে ব্যবহার করে এআই টুল চ্যাটজিপিটি, দ্বিতীয় দল ব্যবহার করে প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিন, আর তৃতীয় দল কোনো ধরনের ডিজিটাল সহায়তা ছাড়াই প্রবন্ধ লিখে।
গবেষণার সময় অংশগ্রহণকারীদের ব্রেইনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয় ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) প্রযুক্তি। এতে দেখা যায়, যারা কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কের সংযোগ সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। বিপরীতে, এআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে।
গবেষকরা জানান, বাহ্যিক সহায়তার মাত্রা যত বাড়ে, মস্তিষ্কের নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা তত কম সক্রিয় হয়। সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীরা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও এআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
স্মৃতিশক্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব:
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, এআই ব্যবহারকারী ৮৩.৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাদের লেখা প্রবন্ধ থেকে সঠিক বাক্য মনে রাখতে পারেননি। অন্যদিকে, যারা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেছেন বা নিজেরা লিখেছেন, তাদের স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এছাড়া, এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে তাদের লেখার প্রতি নিজস্বতার অনুভূতিও কম ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যা বলছেন গবেষকরা?
গবেষকদের মতে, যারা অতিরিক্তভাবে এআই টুলের ওপর নির্ভরশীল, তারা লেখার প্রক্রিয়ায় কম মানসিক সম্পৃক্ততা অনুভব করে এবং নিজেদের লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণও কম থাকে।
সতর্কতা:
গবেষণাটি বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। লেখালেখি বা চিন্তনমূলক কাজে যদি অতিরিক্তভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে গবেষকরা এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলেননি। বরং তারা পরামর্শ দিয়েছেন এআইকে সহায়তাকারী টুল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। [সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া]