ডিটক্স মেথডে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ AM
শিশুসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইসে আসঙ্কি বাড়ছে

শিশুসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইসে আসঙ্কি বাড়ছে © ইন্টারনেট

ধরুন, আপনি কোনো কিছুর প্রতি এমনভাবে আকৃষ্ট হয়েছেন যে, সেটি ছাড়া দিন কাটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধূমপান, মাদক কিংবা অন্যান্য নেশার মতো ক্ষতিকর অভ্যাসের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি ক্ষতির কথা জানার পরও অনেকে তা ছাড়তে পারেন না। কারণ, আসক্তি কখনোই একদিনে তৈরি হয় না, আর একদিনে ভাঙেও না। এজন্য প্রয়োজন ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করা, যাকে বলা হয় ‘ডিটক্স মেথড’।

বর্তমান সময়ে শিশু থেকে তরুণ কিংবা বৃদ্ধ, সবাই ডিজিটাল ডিভাইসের এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। এখান থেকে বের হওয়ার পথ অনেকটাই কঠিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আসক্তি মানুষের মনোযোগ, মানসিক স্থিতি ও উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উইকিপিডিয়াসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি অনেক নিবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেকেই নিজের অজান্তেই দিনের বড় একটি সময় ব্যয় করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অবিরাম স্ক্রলিং, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন গেমে সময় কাটানোর ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা ধীরে ধীরে আসক্তিতে রূপ নেয়। এর প্রভাব হিসেবে কাজে অমনোযোগ, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দেয়।

এতে করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পড়তে বসলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি পড়াশোনার মাঝেই বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, যা সময় নষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়াচ্ছে।

ডিজিটাল ডিটক্স কী?
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্মার্টফোন, কম্পিউটার, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমানো বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, যাতে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ বাড়ে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার সরাসরি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ধাপে ধাপে ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি।

আরও পড়ুন: বেইজিং হাফ-ম্যারাথনে মানুষকে পেছনে ফেলল চীনা রোবট

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং’ বা ‘স্ক্রিন টাইম’ অপশন ব্যবহার করে কোন অ্যাপে কত সময় ব্যয় হচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলে অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এছাড়া ফোনের আকর্ষণ কমাতে সাদাকালো থিম ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ থেকে লগআউট করে রাখা জরুরি। অনেকেই এখন মিনিমালিস্ট লঞ্চার ব্যবহার করে অ্যাপ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ‘ডিজিটাল ডিটক্স চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করলে আসক্তি কমাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। এই সময়টায় বই পড়া, ব্যায়াম, লেখালেখি বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর মতো বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তাদের মতে, ডিজিটাল ডিভাইস পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়, তবে সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব। এজন্য ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

কলসি কাঁখে সুপেয় পানির দাবিতে ম্যারাথনে অংশ নিলেন দুই শতাধি…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদীপ কুমার আর নেই
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে কলুষিত করেছে এনসিপি:…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
অন্যরকম মাইলফলকে লিটনকে বিশেষ সম্মাননা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
গাঁজা-ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬