আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

০৪ জুন ২০২৬, ০৭:২০ PM , আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:২১ PM
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল © সংগৃহীত

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্টানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ’ বিধান লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশটি ইতোমধ্যে হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা আগামী রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালটিতে নবজাতকদের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভবত মৃত্যুর মূল কারণ ছিল ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) চালু না থাকা। প্রয়োজনীয় এসি না থাকায় ঘটনাস্থলে তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত জনসংখ্যা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। এর পরদিন ২৮ মে এ নিয়ে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটি বুধবার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

তিন সদস্যের এই কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালটির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এগুলো হলো— অনুপযুক্ত অবকাঠামো, অক্সিজেন স্বল্পতা ও নার্সদের উদাসীনতা, অতিরিক্ত রোগী, কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতি।

তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, হাসপাতালটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, তা হাসপাতাল পরিচালনার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। এ ছাড়া ঘটনার দিন এসি বন্ধ থাকায় ছোট কক্ষে অক্সিজেন কমে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়। এই সংকটের সময় নবজাতকদের অভিভাবকরা বারবার ডাকলেও দায়িত্বরত নার্সরা কোনো সহযোগিতা করেননি।

এ ছাড়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী রাখা হলেও হাসপাতালটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ও জরুরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কোনো যোগ্য চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

ভবিষ্যতে যেকোনো বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভবনটি সরজমিনে কঠোরভাবে পরিদর্শন করার জন্য প্রতিবেদনে জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব …
  • ০৮ অক্টোবর ২০২৬
যে ছয় কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে ছয় কো…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সাব রেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সিদ্ধেশরী কলেজে ২১ শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ১৫ অক্টোব…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
২৮ দেশের ৫০০ তরুণ নিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন, …
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬