স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত © সংগৃহীত
শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা দিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব নয় উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি উচ্চঝুঁকিতে থাকা মানুষের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবনাচরণ ও সামাজিক কাঠামো গঠনে ধর্মীয় নেতাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইমাম, পাদ্রি, পুরোহিত, ভিক্ষুসহ সব ধর্মের নেতারা যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, আচরণগত পরিবর্তন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সম্পৃক্ততা শুধু ভাতা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও কাজে লাগাতে হবে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি উচ্চঝুঁকিতে থাকা মানুষের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ের একটি সফল উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের নেতাদের অংশগ্রহণে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন’ বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্বে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: বন্ধ্যা নারীরা ভোগেন তীব্র মানসিক ট্রমায়, পুরুষের সংকট যৌন স্বাস্থ্যে: গবেষণা
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিওনাল হাবের প্রধান আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক পিটার শোয়ার্জ বক্তব্য দেন।
এ সময় ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের পরিচালক ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন।