নখে সাদা দাগ © সংগৃহীত
শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে শুধু রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়াই নয়, দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া, নখে সাদা দাগ, স্বাদ-গন্ধে পরিবর্তনসহ নানা উপসর্গ। তবে এসব লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই জিংকের ঘাটতি সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জিংক শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্ষত শুকানো, ডিএনএ ও প্রোটিন তৈরি, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ত্বকের সুস্থতা এবং স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
ভারতের অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ব্রুন্দা এম এস বলেন, খাবারে পর্যাপ্ত জিংক না থাকা, হজমের সমস্যার কারণে শরীরে জিংক শোষিত না হওয়া, গর্ভাবস্থা বা বেড়ে ওঠার সময় বাড়তি চাহিদা এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণে জিংকের ঘাটতি হতে পারে। জিংকসমৃদ্ধ খাবার খুব কম খাওয়াও এর একটি কারণ।
জিংকের ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ
চিকিৎসক ব্রুন্দা এম এস বলেন, ‘জিংকের ঘাটতি হলে বারবার সংক্রমণ, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং স্বাদ বা গন্ধের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।’
এর পাশাপাশি কিছু তুলনামূলক কম পরিচিত লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
নখে সাদা দাগ বা রেখা: নখে সাদা দাগ বা রেখা দেখা দিতে পারে। তবে এটি শুধু জিংকের ঘাটতির কারণে হয় না; অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতিও এর কারণ হতে পারে।
স্বাদ ও গন্ধে অস্বাভাবিক পরিবর্তন: খাবার স্বাভাবিকের তুলনায় বিস্বাদ মনে হতে পারে। পরিচিত গন্ধও আগের মতো অনুভূত নাও হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা: জিংকের ঘাটতি পরিপাকতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা হজমের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
আরও দেখুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ পদের বড় নিয়োগ
এ ছাড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের বেড়ে ওঠা বা বয়ঃসন্ধিতে দেরি, রাতে দেখার সমস্যা, মনোযোগ বা মেজাজে পরিবর্তন এবং বারবার সংক্রমণের মতো সমস্যাও জিংকের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ জিংকের ঘাটতির জন্যই হচ্ছে এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
সীমিত ধরনের খাবার খান এমন ব্যক্তি, শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা রয়েছে এমন রোগী, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করেন এমন ব্যক্তি এবং যাদের শরীরে পুষ্টির চাহিদা বেশি তারা জিংকের ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অতিরিক্ত জিংক গ্রহণেও বমি বমি ভাব, পেটের সমস্যা এবং শরীরে কপার শোষণে বাধাসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। এমনকি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
যেসব খাবারে জিংক পাওয়া যায়
শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণে খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জিংকের ভালো উৎস হিসেবে ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, পূর্ণ শস্য ও ডিম খাওয়া যেতে পারে। আমিষভোজীদের জন্য মাংস ও সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ব্রুন্দা।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অতিরিক্ত জিংক গ্রহণেও বমি বমি ভাব, পেটের সমস্যা এবং শরীরে কপার শোষণে বাধাসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। এমনকি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।