বিএমইউতে ফুসফুস দিবসের সেমিনার
বিএমইউতে আয়োজিত সেমিনার © সংগৃহীত
লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানার শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গে ভুগছেন। আর রংপুরের চালকল শ্রমিকদের মধ্যে এর হার ৫২.৩ শতাংশ, যেখানে ধুলার সংস্পর্শে না থাকা মানুষের মধ্যে এর হার মাত্র ১৭.৬ শতাংশ। স্থানভিত্তিক পরিসংখ্যান গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২২.৪ শতাংশের এই উপসর্গ পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল বার্তা ছিল ‘দ্য জার্নি অব এভরি ব্রেথ’ এবং থিম ছিলো ‘আ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহমুদুর রহমান চৌধুরী ‘Breathing New Knowledge: Research Highlights from Department of Respiratory Medicine, Bangladesh Medical University’ শীর্ষক উপস্থাপনায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত বিভাগের ২১টি গবেষণার মূল ফলাফল তুলে ধরেন।
ডা. মাহমুদুর রহমান চৌধুরী বলেন, বেশি বয়স, ধূমপান ও প্রচলিত দূষণকারী রান্নার পদ্ধতি ছিল উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ। হাসপাতালে সংক্রমিত নিউমোনিয়ার রোগীদের নমুনায় পাওয়া জীবাণুর ৮৭.৮ শতাংশ ছিল একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী (মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট)।
কারখানা থেকে রান্নাঘর, রান্নাঘর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ড—সবখানে দেশের মানুষের ফুসফুস সুরক্ষায় দেশীয় গবেষণার তথ্যই পথ দেখায় বলেও মন্তব্য করেন ডা. চৌধুরী।
সেমিনারে ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. তাসনিম আফরীন জ্যোতি বিভাগের বিরল ও ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কেস উপস্থাপন করেন। শুধু সাধারণ রোগের কথা না ভেবে রোগনির্ণয়ের সময় এ ধরনের বিরল রোগের কথাও মাথায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. সাবিহা আফরীন তন্বী বিভাগের চলমান গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ ছাড়া রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মানাল মিজানুর রহমান অক্সিজেন সরবরাহের নতুন যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী রেসপিরেটরি মেডিসিনে পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করা, রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন। বিভাগের প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন আন্তর্জাতিক জার্নালে বিভাগের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং বিভাগে নতুন নতুন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি (ইন্টারভেনশন) চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। গবেষণায় আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথ কাজের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিএইচএবি) সভাপতি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও সিএইচএবির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. গোলাম সারোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, থোরাসিক সার্জারির অধ্যাপক ও সিএইচএবির সহসভাপতি ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া ও রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজাশীষ চক্রবর্তী প্রমুখ।
বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. মেহনাজ আজিজ হোমা সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলাম। অনুষ্ঠানে নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স ‘নার্সিং মডিউল ফর রেসপিরেটরি এমার্জেন্সি’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সেমিনারের বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস।