ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার ‘আল বারাকা হসপিটালে’ প্রসূতির মৃত্যু হয়। © টিডিসি ছবি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল চিকিৎসায় পপি আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে স্থানীয় সালিস বৈঠকে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত পপি আক্তার উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই রহমতপুর গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী। তাঁর দুই বছর বয়সী একটি সন্তান এবং ১৪ দিন বয়সী একটি নবজাতক রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার ‘আল বারাকা হসপিটালে’ পপি আক্তারের সিজার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসায় তাঁর রক্তনালি কেটে যায়। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানান সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মেয়েটির অকালমৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। ঘটনার খবর পেয়ে আমি সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে আল বারাকা হাসপাতালের মালিক কাফিকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, এলাকাবাসী হাসপাতালে ভাঙচুরের প্রস্তুতি নিলে দ্রুত পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাসিবুর রেজা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।