স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন © সংগৃহীত
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার জমা দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার (৩০ মে) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি আরও ৩ দিন সময় চেয়েছে। ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া হবে।
এর আগে, বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স এক থেকে তিন দিন। পরে এ ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?
নবজাতকদের স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কক্ষটিতে থাকা বাচ্চারা হঠাৎ করে কান্নাকাটি শুরু করে। অল্প সময়ের ব্যবধানেই সব কটি বাচ্চা কান্না শুরু করে। এর মধ্যে একটি বাচ্চা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এনআইসিইউতে (নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়া হয়। তারপর ভোরের দিকে একে একে সব কটি বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরও এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে এনআইসিইউতে থাকা অবস্থায় তাদের জানানো হয়, বাচ্চারা মারা গেছে। মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি নবজাতকের শরীর নীল রং ধারণ করে।
ঘটনার বিষয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ৬টি। ওয়ার্ডটি পোস্টডেলিভারি ওয়ার্ড। বাচ্চারাও মায়ের পাশে ছিল। যেহেতু এটা এসি ওয়ার্ড, মায়েরা হঠাৎ রাতে কর্তব্যরত নার্সদের এসি বন্ধ করতে বলছিল ঠান্ডা লাগার জন্য। এসি বন্ধ করার পর রাত চারটার দিকে দুটি বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন, বাচ্চা ভালো আছে। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলা হয়।
নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, সকালের দিকে হঠাৎ মায়েরা আবার বলেন, শিশুদের অসুস্থ মনে হচ্ছে। তখন ছয়টি শিশুকেই এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুটি শিশু নিয়ে যাওয়ার সময়ই মারা গেছে। আর চারটি শিশুর অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। তাদের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল; কিন্তু বাঁচানো যায়নি।