কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কুয়েটের তাহমিদ © টিডিসি ফটো
দিনে নয় ঘণ্টার চাকরি। অফিস শেষে ক্লান্তি। তাই রাত জেগে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা নয়, বরং মেট্রোতে যাতায়াত, লাঞ্চ ব্রেক, এমনকি অফিসের ছোট ছোট বিরতিকেই কাজে লাগিয়েছেন বিসিএস প্রস্তুতির জন্য। আর সেই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতিতেই ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহমিদ রেহমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের বিসিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তাহমিদ। সেখানে তিনি জানান, ২০২২ সালে কুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করার পরই একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
তিনি লিখেছেন, শুরুতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা ছিল। পরে লক্ষ্য ছিল গুগল বা ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার। তবে পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত দেশে থেকেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দেশে থাকার সিদ্ধান্তের পরেই দিনে ৯ ঘণ্টা চাকুরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন তিনি। তবে অফিস শেষে ক্লান্তির কারণে নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই যাতায়াত ও কর্মদিবসের অবসরের সময়গুলোকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ফেসবুক পোস্টে তাহমিদ লেখেন, ‘মেট্রো দিয়ে যাওয়ার সময় কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করতাম, লাঞ্চ টাইমে আল জাজিরা ছেড়ে দিয়ে বসে থাকতাম, অফিসে যেয়ে বাথরুমে বসে পড়তাম।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার এই অস্বাভাবিক ধরনের প্রস্তুতির কারণে স্ত্রী তাকে বিসিএস নিয়ে অন্যদের পরামর্শ দিতে নিষেধ করেছেন।
আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের—এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি
সফলতার পেছনের প্রেরণার কথা উল্লেখ করে তাহমিদ লেখেন, ‘আল্লাহ তা'য়ালা প্রদত্ত দ্রুত বুঝার সক্ষমতা, আমার মা আমার মাঝে যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে, আর আমার স্ত্রীর সহযোগিতা— এগুলোর সমন্বয়েই আমার যত সফলতা।’
তাহমিদ রেহমান বীরশ্রেষ্ঠ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং নটর ডেম কলেজ, ঢাকা থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
তার এই সাফল্যে কুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।