শাহবাগে উত্তেজনা © টিডিসি ফটো
শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সাউন্ডবক্সে ভাষণ বাজানোর অভিযোগে আটক করার প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে কর্মসূচি পালনের সময় পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেয় কয়েকটি ছাত্রসংগঠন।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শহিদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আহমেদ সৈকতকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকা থেকে সাউন্ডবক্সসহ আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ সমর্থিত টিএসসিভিত্তিক সংগঠন ‘স্লোগান’ ৭১–এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা দেন, সৈকতকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হবে।
ফেসবুকে ঘোষণার পর শনিবার রাত ৯টার দিকে ইমিসহ বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে শাহবাগ থানার বিপরীতে জাতীয় জাদুঘরের ফটকের সামনে একটি রিকশায় মাইক বসিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো শুরু হয়।
এ সময় মাইকে ভাষণ বাজানোর অবস্থায় তাদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন ইমি। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে এবং মাইকের ব্যাটারিটা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা হামলা এই করেছে।’ তবে কারা এ হামলা করেছে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মোদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রতিটি আন্দোলনকে ধারণ করি। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। যেই সন্ত্রাসীরা, যেই সন্ত্রাসীরা ৭ই মার্চের পেছনে অবস্থান নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের আড়ালে অবস্থান নিয়ে লিগারদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, আমাদের অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে থেকে এই ধরনের লিগারদেরকে যারা পুনর্বাসন করার চেষ্টা করবে, তাদেরকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবো।’
এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ শাহবাগ থানার সামনে উপস্থিত হন। এ সময় যেই রিকশা থেকে মাইক বাজানো হচ্ছিল তার সামনে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণটা মূল বিষয় না, বিষয় হচ্ছে ৭ই মার্চকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার পায়তারা করা হচ্ছে।’
এক পর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আবারও ছাত্রলীগবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতা এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে যে রিকশা থেকে মাইক বাজানো হয়েছিল সেটিসহ শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
শাহবাগ থানার ভেতরে ইমির সঙ্গে থাকা একজনকে ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা দাবি করে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ব্যক্তি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
থানার সামনে মাইক বাজানোর বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা ডিসি মাসুদ বলেন, ‘শাহবাগ থানার সামনে এসে মাইক বাজানোটা উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।’
শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিইনি।’