ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির বয়স ৫ বছর হতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। নতুন কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন যাবত স্থবির থাকা ইবি শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরেই। ইতিমধ্যে নতুন কমিটিতে পদ পেতে বিভিন্ন চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
তবে একদিকে রয়েছে দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নেতাদের মূল্যায়নের চাপ, অন্যদিকে রয়েছে বর্তমানে নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকা তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশা। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তুলনামূলক বয়স্ক, নাকি নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকা তরুণ নেতৃত্ব, নাকি উভয়ের সমন্বিত নেতৃত্ব—কেমন কমিটি চান ইবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আর নতুন কমিটির কাছে তাদের প্রত্যাশাই-বা কেমন, তা নিয়ে লিখেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওয়াসিফ আল আবরার।
ইবি ছাত্রদলের কর্মী নকিবুল ইসলাম অংকন বলেন, ‘৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী দুঃসময়ে দলের পাশে যেসব সহযোদ্ধকে পেয়েছি, তাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি দেখতে চাই। নতুন কমিটির কাছে প্রত্যাশা সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করা, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। কমিটির আঙ্গিক কেমন হবে, সে বিষয়ে আমি কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছি।’
ছাত্রদল কর্মী রেজাউল রাকিব বলেন, ‘মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে ইবি ছাত্রদলের কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি। এতে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও স্বপ্ন ধারণ করে আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকশিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে স্বচ্ছ, যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক কমিটি প্রদান করা হলে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’
আরও পড়ুন: যে হাত বই তৈরি করে সেই হাতেই ওঠে না পাঠ্যবই
কর্মী জিনাত মালিয়াত সীমা বলেন, ‘আমি এমন একটি কমিটি প্রত্যাশা করি, যেখানে সিনিয়র ও জুনিয়রদের সমন্বয় থাকবে। কারণ দলকে সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন, পাশাপাশি তরুণদের উদ্যম ও কর্মক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কমিটির কাছে প্রত্যাশা থাকবে—সব কর্মীদের মূল্যায়ন, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’
ছাত্রদল কর্মী আজহারুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘আমি চাই, নতুন কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং সুন্দর একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলবে। কমিটির বিষয়ে বলতে গেলে দীর্ঘ দিন ধরে সিনিয়র ভাইয়েরা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের মামলা হামলার শিকার হয়েছে, তাদের মূল্যায়নের পাশাপাশি জুনিয়রদের ত্যাগকেও ছোট করে দেখা যাবে না। তাই সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে একটি সুন্দর কমিটি প্রত্যাশা করি।’
ছাত্রদল কর্মী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদলের ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে প্রত্যাশা থাকবে, জুলাই আন্দোলনসহ দুর্দিনে যারা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে দীর্ঘদিন রাজপথে ছিল, সেই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার। আশা করি, নেতৃত্বের মানদণ্ড কোনো রেফারেন্স বা সুপারিশে হবে না, নেতৃত্বের মানদণ্ড হবে একজন কর্মীর ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। আমি বিশ্বাস করতে চাই, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে অবশ্যই দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীরা মূল্যায়িত হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র যদি চায় আমাদের দুর্দিনের সহযোদ্ধা সিনিয়র ভাইদের আরেকটি সুযোগ দিতে, সেক্ষেত্রে সিনিয়র ও জুনিয়রের সমন্বয়ে একটি সুন্দর বিতর্কমুক্ত কমিটি হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। আর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে দেওয়া হলেও আমরা প্রস্তুত আছি।’
ছাত্রদল কর্মী আলামিন হোসেন বলেন, ‘যারা ৫ আগস্টের আগে বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথে থেকেছে। আমি আশা রাখি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়ে সুন্দর একটি বিতর্কমুক্ত নেতাদের দিয়ে কমিটি দেবে। আশা করব, নতুন কমিটি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবে। নতুন নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতির নৈতিক পরিবর্তন ঘটাবে।’
আরও পড়ুন: চার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হবে প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ
ছাত্রদল কর্মী আরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে আমার প্রত্যাশা থাকবে—৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং সাধারণ কর্মীদের মতামত ও আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কমিটির ধরন বা আঙ্গিকের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব।’
ছাত্রদল কর্মী আবু সাইদ রনি বলেন, ‘আশা করি, আগামী কমিটি হবে শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সিনিয়র নেতারা ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়েছেন। তাদের এই অবদানকে মূল্যায়িত করে সাংগঠনিক রূপ প্রদান করার মাধ্যমে সবাইকে আরও উদ্যমে করে তোলা কার্যকর পদক্ষেপ হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উদ্যম, আধুনিক চিন্তাভাবনা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও জুনিয়রদের কর্মোদ্যমের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব কমিটি গঠনের মাধ্যমেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তার সাংগঠনিক শক্তি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
ছাত্রদল কর্মী রিফাত হাসান বলেন, ‘আমি চাই ইবি ছাত্রদলের প্রতিটি ত্যাগী কর্মী যেন একটা রাজনৈতিক পরিচয় পায়। দুর্দিনের প্রতিটি কর্মী যারা পরীক্ষিত ইতিমধ্যেই তাদের সমন্বয়ে কমিটি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি আশা রাখি, যারাই নেতৃত্বে আসবে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বিগত দিনের মতো সবার আগে এগিয়ে আসবে। আর কমিটির আঙ্গিক নিয়ে বলতে গেলে আমি মনে করি, কমিটির শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ সিনিয়র এবং মাঠপর্যায়ে গতিশীল জুনিয়রের একটা সমন্বয় হলেই ভালো হবে।’
ছাত্রদল কর্মী রাকিব হাসান স্বাক্ষর বলেন, ‘আমি মনে করি, নতুন কমিটি হবে তারুণ্য নির্ভর, শিক্ষার্থীবান্ধব, জবাবদিহিমূলক এবং ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিগত দিনে যারা রাজপথে ছিল, সংগ্রাম করেছে এবং যাদের সাংগঠনিক দক্ষতা থাকবে। ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনেক সদস্য নিষ্ক্রিয় থাকায় এবং কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য আশা করি দ্রত কেন্দ্রীয় কমিটি সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়ে নতুন কমিটি উপহার দেবে। তাতে সংগঠন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।’
আরও পড়ুন: সেই যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আজই ব্যবস্থা: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
ছাত্রদল কর্মী রোকনুজ্জামান অর্ক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৫ আগস্টের আগে যারা লড়াই সংগ্রামে ছিল, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। দলের সুনাম নষ্ট করে এমন কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে এমন নেতাকর্মীদের আমরা কমিটিতে দেখতে চাই। আশা রাখি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের দিয়েই নতুন কমিটি হবে।’
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ইবি ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে আগ্রহী, উৎসাহী এবং নিজেদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়ে আশাবাদী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল ও গণমুখী ভূমিকা পালন করবেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদল তার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করবেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ত্যাগ, মেধা, যোগ্যতা এবং তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিটি গঠন করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিটি গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমরা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ, সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন এবং কঠিন সময়ে ছাত্রদলের আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি অবিচল ছিলেন। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কমিটিই পারে ইবি ছাত্রদলকে আরও গতিশীল, দায়িত্বশীল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে।’
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা রাজপথে মামলা হামলার শিকার। আমাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে এই সংগঠনের জন্য। যেহেতু দল ক্ষমতায় এসেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যারা আছেন, অবশ্যই তারা আমাদের মূল্যায়িত করবে বলে আশা করি। এ ছাড়া অভিজ্ঞ, জ্ঞানী, দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া জামাত শিবির ও বটবাহিনীকে মোকাবেলা করা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য অবশ্যই সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সিনিয়র জুনিয়র সম্মিলিত একটি কমিটি উপহার দিবেন বলে আমি আশাবাদী ‘
যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বলেন, ‘ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি সিনিয়র ও জুনিয়রের সমন্বয়ে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের জন্য ভালো হবে বলে আমি মনে করি। বর্তমান রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতিতে আমি বিশ্বাস করি এই কমিটি শিক্ষার্থীদের চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে সক্ষম হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে ছাত্রদল নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছাত্ররাজনীতিকে আধুনিক করতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি, এই কমিটি অতীতের সব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি গতিশীল, সাহসী এবং সুসংগঠিত ছাত্রদল উপহার দেবে।’
আরও পড়ুন: বয়সে ক্রিশ্চিয়ানোকেও ছাড়িয়েছে ক্রেগ গর্ডন, বিশ্বকাপে কাঁপাবেন চল্লিশোর্ধ ৮ খেলোয়াড়
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘জীবনে মহামূল্যবান সময় আমি দিয়েছি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পিছনে। দুর্দিনে ৩১ সদস্যের কমিটির ৬-৭ জন নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, বাকিরা নিষ্ক্রিয় থেকেছে। ইবি ছাত্রদলের সমসাময়িক অন্যান্য ইউনিটের মতো আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে নেতা আর কর্মীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো না, কর্মীরা পরিচয় পেতো, সংগঠনিক দায়বদ্ধতা বাড়ত, সংগঠন প্রাণ ফিরে পেত। আহ্বায়ক কমিটিতে বঞ্চিত হলেও কখনো সংগঠন ছেড়ে নিষ্ক্রিয় হইনি। নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী কারণ ২০১৩ সালের হরতাল অবরোধ থেকে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী আমি-ডামি নির্বাচন প্রতিহত ও জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি এবং আমার ছাত্রত্ব আছে। আমি বিশ্বাস করি, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিশ্চয়ই রাজপথের ত্যাগী ও যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।’
শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ‘ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দীর্ঘ সময় আমরা রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে আমি ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন চাই, যারা জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করেছে। আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি এই জেনারেশনের জেন-জি পালসের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারুণ্যের শক্তিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সর্বোপরি নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী কমিটি উপহার দিবে বলেই আমি আশাবাদী।’
ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘কমিটি কবে প্রকাশ করব, তা একান্তই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। এটা আমরা গণমাধ্যমে বলতে পারি না। তবে ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি কমিটি করেছি, আরও কমিটি গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটির ব্যাপারেও কাজ চলছে। আশা করি, খুব দ্রুতই আমরা এই কমিটি গঠন করতে সক্ষম হব।’