স্মারকলিপি প্রদান © টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন সংকট নিরসন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ৫ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দরা এ স্মারকলিপি জমা দেয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অছাত্রদের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
আরও বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের যৌক্তিক অধিকার বাস্তবায়ন করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বারবার দাবি জানানোর পরও এসব বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি পাঁচটি দাবি উত্থাপন করে। দাবি গুলো হলো শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ একর জমিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নির্ধারিত সময়সীমাসহ রোডম্যাপ প্রকাশ, ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা, এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
স্মারকলিপির শেষাংশে জাতীয় ছাত্রশক্তি জানায়, এসব দাবি কোনো ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়,বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ন্যায্য অধিকারের দাবি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপও প্রত্যাশা করে সংগঠনটি।