প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রীনিবাস থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিসিএস গলির শেষপ্রান্তে অবস্থিত ফজিলা ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছাত্রীনিবাসের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীনিবাসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই ছাত্রীকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে কক্ষের বাইরে দেখা যায়নি।
পরে সন্ধ্যায় কক্ষে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ছাত্রীনিবাসের মালিক ও কয়েকজন ছাত্রী দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ওই ছাত্রীকে জানালার সঙ্গে কাপড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
জানা গেছে, প্রায় আট থেকে নয় মাস ধরে ওই ছাত্রী ফজিলা ছাত্রীনিবাসে থাকতেন। এর আগে তিনি দিনাজপুর শহরের অন্য একটি মেসে অবস্থান করতেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরিবারের সম্মতি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, ‘প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখে আমাদের কাছে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার আগে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তার মধ্যে আত্মহত্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ছিল। পোস্টমর্টেমের পর এসব বিষয় নিশ্চিত করে বলা যাবে। ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে।’