শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই © সংগৃহীত
নতুন বছরের প্রথম দিনেই আনোয়ারা উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেলেও মাধ্যমিক স্তরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সংকট। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দাবি করছে, উপজেলার সব শিক্ষার্থী বইয়ের আওতায় এসেছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অধিকাংশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো বইবঞ্চিত।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাধ্যমিক ও শিক্ষা অফিসে এ তথ্য পাওয়া যায়।
উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ধারিত বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি এই তিন বিষয়ের মোট ৫ হাজার ৬৪৩টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে একই তিন বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫০টি।
তৃতীয় শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান এই পাঁচ বিষয়ের বই বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০টি। এ ছাড়া ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৪ হাজার ৮শত ৬০টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই বিতরণ করা হয়েছে ৯শত ২০টি।
চতুর্থ শ্রেণিতে মূল পাঁচ বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৬ হাজার ২৮টি। এর সঙ্গে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৫ হাজার ৪৩টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই ৯শত ৪৫টি। পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ের বই বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৯টি। পাশাপাশি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৪ হাজার ৬২৯টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই ৯৪০টি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে আনোয়ারা উপজেলায় প্রাথমিক স্তরে মোট ৬৯ হাজার ৯শত ৯২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী বলেন, 'আমাদের উপজেলার সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থী বইয়ের আওতায় এসেছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।'
তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক পর্যায়ে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেনির শিক্ষার্থীরা এখনো বইবঞ্চিত। কবে নাগাদ সবাই বই পাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে একটি বিদ্যালয়ের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়েছে, 'সংশ্লিষ্ট সকলকে জানান যাচ্ছে যে, ১লা জানুয়াযান সকাল ১০টায় ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণির বই বিতরণ করা হবে। অন্যান্য শ্রেণির বই পাওয়া গেলে পরবর্তিতে বিতরণ করা হবে।'
চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, 'ষষ্ট ও নবম শ্রেণি ব্যতীত কোনো শ্রেণির বই এখন পর্যন্ত আমার এখানে আসেনি। ষষ্ট ও নবম শ্রেণির বইগুলো আমরা ধাপে ধাপে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ অন্যান্য শ্রেনির বইগুলো পাবো সেটা জানি না, তবে বই আসলে শিক্ষা অফিস আমাদের জানাবে।'
সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহিত আল সাদাত বলেন,'নতুন বছরের প্রথম দিনে সবাই নতুন বই পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বই ছাড়াই ক্লাস করছি। শিক্ষকরা বোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন, কিন্তু বই না থাকলে বাসায় পড়া কঠিন হয়ে যায়।'
পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি জানান, 'প্রাথমিকের ছোট ভাইবোনেরা বই পেলেও আমরা এখনো পাইনি। এটা খুব হতাশাজনক। পরীক্ষার সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।'
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিমা ইসলাম বলেন, 'নতুন বই হাতে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করার আনন্দটাই আলাদা। অন্যদিকে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। বই ছাড়া নিয়মিত পড়াশোনা সম্ভব নয়।'
শিক্ষার্থীরা দ্রুত সব শ্রেণির পাঠ্যবই সরবরাহের দাবি জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই সংকট নিরসন না হলে পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বলেন, 'মন্ত্রণালয় থেকে এরিয়াভিত্তিক প্রকাশনা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সেই প্রকাশনা ছাপাতে বিলম্ব করলে আমাদের বই পেতে দেরি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পুরোনো বই দিয়ে পাঠদান চালাই। তবে এবার আমরা পুরোনো বই দিই নাই। বই পাওয়া সাপেক্ষে পুরোদমে পাঠদান শুরু হবে।'
পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলেন, 'ক্লাস সিক্স আর নাইনের সব বই বিতরণ করেছি। দুই-একদিনের মধ্যে বাকি বই গুলো পাবো বলে আশা করছি।'
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, 'ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির বই এখনো আমরা পাইনি।গতকালকে রাতে বই এসেছে কিনা জানা নেই।বই পেলে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে বইয়ের আওতায় আনতে পারবো বলে মনে করছি।'
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক বলবৎ থাকায় আনোয়ারা উপজেলার কোথাও বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা দেখা যায়নি। স্ব স্ব শ্রেণি কক্ষে বইগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছে শিক্ষকেরা।