আই কে গুজরাল ঘোষ অপূর্ব © টিডিসি সম্পাদিত
গবেষণায় ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনার পাশাপাশি একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন আই কে গুজরাল ঘোষ অপূর্ব। তিনি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট টাইলার (ইউটি টাইলার)-এ মাস্টার্স প্রোগ্রামে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (জিআরএ) হিসেবে এ স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি।
স্নাতক পর্যায়ে ৩.৮৫ সিজিপিএ অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া অপূর্ব বর্তমানে ইউটি টাইলারে মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি তিনি এনার্জি হার্ভেস্টিং, সেন্সিং, পাইজোইলেকট্রিসিটি, ট্রাইবোইলেকট্রিসিটি ও পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়াল নিয়ে গবেষণা করছেন।
এ পর্যন্ত তাঁর ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক কিউ১ জার্নাল প্রকাশনাও রয়েছে। পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়ালস, অপটোইলেকট্রনিকস, কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এবং ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি)-ভিত্তিক গবেষণায় তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমানে স্বনির্ভর ডিভাইস, এনার্জি হার্ভেস্টিং ও উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।
স্কলারশিপ অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে অপূর্ব বলেন, ‘এটি আমার জন্য আনন্দ, গর্ব এবং দায়িত্বের বিষয়। এ অর্জন শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি।’
আরও খবর: ডায়াবেটিস কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?
স্নাতক পর্যায়ে তাঁর গবেষণার অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন ড. মো. রাশিদুল ইসলাম। ফেসবুকে এক পোস্টে অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক ও সুপারভাইজার হিসেবে এটি আমার জন্য সত্যিই গর্বের মুহূর্ত। জাবিপ্রবিতে আমার প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন অপূর্বর ইউটি টাইলারে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স স্কলারশিপ অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। আমি অপূর্বর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং তার এই অর্জনে গর্বিত।’
ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান বলেন, ‘অপূর্ব ইইই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। জাবিপ্রবি থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদুল ইসলাম তার স্কলারশিপের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অপূর্ব বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে আমার সঙ্গে কাজ করেছে। আমি তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’
জুনিয়রদের উদ্দেশে অপূর্ব বলেন, ‘স্বপ্ন বড় রাখুন, কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য প্রতিদিন কাজ করুন।’ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের জন্য স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণায় যুক্ত হওয়া, ভালো সিজিপিএর পাশাপাশি গবেষণা, প্রোগ্রামিং, সিমুলেশন ও ডেটা অ্যানালাইসিসের দক্ষতা অর্জন এবং ভালো মেন্টরের দিকনির্দেশনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।