ইবির দুই ছাত্রনেতাকে শোকজের ঘটনায় নিন্দার ঝড়!

২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৪৭ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদ সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচার চেয়ে উৎসবিহীন ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়ে প্রশাসনের শোকজ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই রাজনৈতিক ছাত্রনেতা। তাদের বক্তব্যে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বক্তব্যের উৎস ও কারণ ব্যাখ্যা করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্টরের দপ্তরে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ প্রাপ্তরা হচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত এবং বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক দুই অফিস আদেশে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। 

তবে সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিটি আন্দোলনে সরব থাকা দুই ছাত্রনেতাকে প্রশাসনের এভাবে শোকজ নোটিশ দেওয়াটা ভালো ভাবে নেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। শোকজের কপি সামাজিক মাধ্যমে আসার পরপরই প্রশাসনের এহেন কাজে নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে। 

বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। এছাড়া সাইফুল্লাহ আল হাদী লিখেছেন, এ নাম ও পদবির কোনো পারসোন ইবিতে আছে বলে আমার আমার জানা নেই। সুতরাং আগ বাড়িয়ে এ শোকজ নোটিশ কেউ তার নিজের গায়ে টেনে নেওয়া উচিত না।

সাকিব হোসেন লিখেছেন, প্রশাসন ১০০ দিন পর সিআইডিকে যাচাইবাছাই এর জন্য নোটিশ দেয়। অথচ একজন শিক্ষার্থী বক্তব্যের ১ দিন পরেই কারণ দর্শানোর নোটিশ পায়। এ সিরিয়াসনেসটা যদি আমার ছোটোভাই সাজিদ এর ব্যাপারে থাকতো তাহলে হয়ত আমরা এতদিন আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পেয়ে যেতাম।

আশরাফুল অপু লিখেছেন, ১০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন খুনিদের শনাক্ত করতে পারে নাই এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শেখ সুমন বলেন, কমেন্ট করলেও কি ‘কেন কমেন্ট করেছি’ তার কারণ দর্শানোর নোটিশ করবে প্রশাসন? অনেক আগেই বলেছি এ প্রশাসনের আয়ু আর বেশি নাই। সামান্য একটু অপেক্ষা করো। মানুষের যখন পতন ত্বরান্বিত হয়, তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে। প্রশাসন সেই পথে।

তানভীর বলেন, প্রশাসন এভাবেই নিজের ব্যর্থতা ঢাকছে। শোকজের ভয়কে অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করছে এ অথর্ব প্রশাসন!

জারিন তাসমিন পুষ্প লিখেছেন, তাহলে স্যার প্রক্টোরিয়াল বডি সাজিদকে হত্যার দিন ক্যাম্পাসে কেন উপস্থিত ছিলো না, কেন প্রশাসন লাশ উদ্ধারের এতো পরে আসলো সেসবের কারণ দর্শানোর একটা নোটিশ আমরাও আপনাদের দেব না কি বলেন? একটা মার্ডারকে মশকরা বানায় রাখছেন আপনারা। কেউ আওয়াজ তুললেই তার টুটি টিপে ধরতে আপনারা তৎপর! কেনো? সরষের ভেতরেই ভূত?

আব্দুল মুনতাকিম আল-মারুফ লিখেছেন, ২টি প্রকাশ্য সংগঠনের নাম, পদবি পর্যন্ত যারা ঠিক ভাবে লিখতে পারে না! এটা অফিশিয়াল নোটিশ! একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন! এতে করে বুঝা যায় প্রশাসন ‘সাজিদ হত্যাকান্ডের’ বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্যাম্পাসে সাজিদ হত্যার বিচার হওয়াটা ১ম এবং প্রধান কাজ হওয়া উচিত! এর বাইরে অন্য চিন্তাভাবনা যারা করে তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন করতে হয়!

আসাদুল্লাহ আল গালিব লিখেছেন, এ দেশে লাশের কোন মূল্য নেই। আর ইবি প্রশাসন সারা বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব থেকে বাজে প্রশাসন এখন পর্যন্ত তারা প্রমাণ দিয়ে আসছে সব ক্ষেত্রে। সাজিত হত্যার এতদিন হল তাদের ক্লিয়ার কোন বিবৃতি এখন পর্যন্ত আমরা পাই নাই। তারা আসলে ঘটনাটাকে অন্যদিকে প্রভাবিত করার কারণে এই শোকজ কে একটি মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে আর কত কিছু করবে

সাকিব চাকলাদার লিখেছেন, ছাত্রদল ও শিবিরও তো প্রশাসনকে নিয়ে কতকিছু বলে সাজিদ হত্যার বিচার নিয়ে। তাদেরকে তো এভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় না। কারণ তারা বড় দল? প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের লেজুড় তাই?

জাহিদ হাসান রাহী লিখেছেন, এ প্রশাসন পারে না বিচার করতে, দিনের পর দিন ফাঁকা বুলি আর প্রহসন করে যাচ্ছে, সাজিদ হত্যার পর প্রতিটি যায়গায় কেউ কথা বলতে গেলে তাকে কিভাবে দমিয়ে রাখবে সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তারা। সাজিদ হত্যার পর অফিসিয়ালি লিখিত স্টেটমেন্ট দিতে তাদের কত টালবাহানা ছিল। কতশত কারণ দর্শানো যে আপনাদের বাকি তার সংখ্যা হিসাব করতে হয়।

তালাবার সাবেক সেক্রেটারি ও সহ-সমন্বয়ক সাজ্জাতুল্লাহ শেখ লিখেছেন, আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ইবি শাখা ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইবি শাখার নাম প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ভুল করে সংগঠন দুটির সাথে বিদ্রুপ করেছে। আওয়ামী সময়ে প্রশাসন আমাকে, কাইয়ুম ভাইকে, সায়েদ ওসমান বিন হাসনাইনকে শোকজ করত। আমাদের অপরাধ ছিল আমরা আন্দোলন করতাম। আমার সন্দেহ হচ্ছে বর্তমান প্রশাসন কোন নীতিতে চলছে।

ইবির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ শিপন লিখেছেন, ইবি প্রশাসনের উচিত সাজিদ হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা করা। তানা করে যারা ভাই ও বন্ধু হত্যার বিচার দাবি করছে তাদের মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করছে যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে তাদের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কিনা। আমাদের মনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ইবি প্রশাসন কেন অফিস আদেশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ আইসিটি সেল থেকে হঠাৎ করে প্রক্টরের নিয়ন্ত্রণে দিয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। সেইসাথে সাজিদ হত্যার বিচারের দাবি জানানোর জন্য কোন ছাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস কর…
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মুক্তিযুদ্ধবি…
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে ন…
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকদের বদলির তথ্য ভ্যালিডেশন শুরু, আবেদন শুরুর অনুমতি চে…
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
বিয়ের পরদিনই মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ভাগ্নের শোকে …
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
চবির নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হাসান মিয়া
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence