দুই দশকেও সম্পত্তি বুঝে পায়নি কুবি প্রশাসন, অব্যবহৃত জমি এখন ময়লার ভাগাড়

০২ জুলাই ২০২৫, ০২:৩৫ PM , আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩২ AM
কুবির অব্যবহৃত জমি এখন ময়লার ভাগাড়

কুবির অব্যবহৃত জমি এখন ময়লার ভাগাড় © সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের অপরপাশে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাংশ জমি। তবে বিগত ২০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমিটির নামজারি হয়নি ফলে অব্যবহৃত জমিটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে জমিটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনা না থাকায় আশপাশের দোকানিরা সেখানে প্রতিদিনের বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলছে। এ কারণে জমিটির পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জায়গাটিতে যদি বাগান অথবা বসার জায়গা করা যেতো তাহলে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হতো না। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সু-নজরের অভাব।

নামজারি না হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে পূর্বের প্রশাসন বর্তমান প্রশাসনকে এই জমির কোনো নথিপত্র বুঝিয়ে দেয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাপে এই জমিসহ রাস্তার উপরেও কিছু জমি রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে এই সম্পত্তিটির দলিল নেই। তবে বর্তমান প্রশাসন দলিল করার জন্য কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন অন্তর বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে অবস্থিত প্রায় পাঁচ শতাংশ জায়গা দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যেটিকে সঠিকভাবে কাজে না লাগিয়ে এলাকাবাসীর জন্য ডাস্টবিনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের ব্যর্থতা কতটা গভীর ছিল। বর্তমান প্রশাসনও এবিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। প্রশাসনকে বলবো, আপনারা একটি সুন্দর পরিকল্পনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিটিকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমিয়ে দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী কায়েসুর রহমান বলেন, এই জায়গাটি যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এটা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই জানে না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পত্তি এমনভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া খুবই দুঃখজনক। প্রধান ফটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যেমন চোখে লাগে, তেমনি এটি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এই জায়গাটিকে সৃজনশীল কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারে। আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, বিগত দিনগুলোতে দলীয় প্রশাসন থাকায় তাদেরকে কেউ কিছু বলতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান মৌলিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে এটা নিয়ে ভাবার সুযোগ পাইনি। জমিটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। জমিটি ব্যবহার করার জন্যও আমরা পরিকল্পনা করছি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনেও নামজারি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় নিজ সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে জায়গাটি, অন্যদিকে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রমজানে বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও, সংশোধিত তালিকা দেখুন
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্কুলের সংশোধিত ছুটির তালিকা দেখুন এখানে
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় টিএসসিতে ছাত্রদলের মিষ্টি ব…
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাচ্ছে বাংলাদেশ
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘শিক্ষা প্রশাসনে সঠিকভাবে কাজ না করলে দুজনেই আপনাদের কাঠগড়া…
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬