কুবি শিক্ষক সমিতির তিন সদস্য © টিডিসি ফটো
গঠনতন্ত্র পরিপন্থী আচরণের অভিযোগ এনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতির তিন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (৩ জুন) শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান স্বাক্ষরিত এক পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়।
সদস্যপদ বাতিল হওয়া তিনজন শিক্ষক হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুল ইসলাম শেখ, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী এবং অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শিকদার।
চিঠিগুলোতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ মে শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ করার অভিযোগে তিন শিক্ষকের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে পাঁচ কার্যদিবসের মাঝে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে সেটির জবাব দেন তিন শিক্ষকই। তবে সেটিকে 'সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত' করে শিক্ষক সমিতি। সেই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে হতে তাদের শিক্ষক সমিতির সদস্য পদ বাতিল করা হয়।
এর আগে ২৭ এপ্রিল কোষাধ্যক্ষের সাথে কথা বলার সময় আইকিএউসির পরিচালক অধ্যাপক রশিদুল ইসলাম শেখ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরকে মারতে তেড়ে যান। একইদিনে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দীকি একজন নারী শিক্ষকের সাথে উচ্চবাচ্য করেন। ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের সাথে হামলার সময় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে ঘুষি মারেন এবং অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শিকদার ২৮ এপ্রিল শিক্ষক সমিতিকে 'তালা সমিতি' বলে বহিরাগত শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক সমিতির রুম তালা মারার নির্দেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী জানান, শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের কোনোভাবেই বহিষ্কার করতে পারে না। এর আগে যে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে সেটিও গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি। ২৭ তারিখে সাধারণ সভা করার কথা থাকলেও তারা ২৮ তারিখ সাধারণ সভা করেছে। সেটিও অবৈধ।
অভিযোগ এনে বহিষ্কার করা হয়েছে তাহলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সবার আগে বিচার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আমার এখন আলোচনায় আছি ৩জন। আমরা নিজেরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।