বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
শিক্ষক সংকট ও শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে কম্পিলিট একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা এবং এর মধ্যে সমাধান না হলে বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।
শিক্ষকরা জানান, ইউজিসির সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ছাড়া পদোন্নতি বৈধ হবে না। শিক্ষকদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রেও চ্যান্সেলর অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট সংবিধি নেই। ফলে ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল পদোন্নতিই নয়, শিক্ষার্থীদের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম ও অর্জিত ডিগ্রিও ভবিষ্যতে আইনি সংকটে পড়তে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই সমস্যার নিরসন না ঘটানো পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ বিধি-সংবিধিহীন অবৈধ শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে কঠিনতর আইনি সংকটে না ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
এছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সম্মানি বন্ধ থাকা এবং শিক্ষক সংকটের কারণে অতিরিক্ত ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তারা। পদোন্নতির দাবিতে ইতিমধ্যে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছেন।
এদিকে শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে চরম সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন বলেন, ইতিহাস বিভাগের ২০২৩ -২৪ শিক্ষাবর্ষের শিহাব উদ্দিন বলেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে আমাদের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টই কমবেশি সেশনজটের কবলে রয়েছে। অনেক বিভাগ ইতিমধ্যে সেমিস্টার শুরু করেছে এবং কেউ কেউ সামনে শুরু করবে, যাতে ঈদের ছুটির আগেই একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।
যেমন, আমাদের আগামী ২৬ তারিখে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি 'শাটডাউন' কার্যকর হয়, তবে আমাদের পরীক্ষা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এতে করে আমরা পুনরায় তীব্র সেশনজটে পড়ার আশঙ্কায় আছি। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই ধরণের অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই শিক্ষার পরিবেশ সচল থাকুক এবং আমাদের পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন হোক।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মোঃ মারুফ হাওলাদার বলেন, নিজের হতাশ মধ্যে ডুবিয়ে ফেলতেছি কারন আমাদের পরিক্ষা হওয়া কথা ছিলো ইদের আগে কিন্তু সেই পরিক্ষা এখন মনে হয় না ইদের আগে হবে। আমাদের ফরম ফিলাপ ২১ থেকে ২৭ তারিখ মধ্যে হওয়া কথা ছিলো কিন্তু এই বর্তমান পরিস্থিতি আমার ফরম ফিলাপ করতে পারবো না। যেহেতু ফরম ফিলাপ করতে পারবো না সেহেতু ইদের আগে পরিক্ষা দিতে পারবো না। যদি পরিক্ষা না দিতে পারি তাহলে প্রায় দুই মাস সেশন জট পড়তে হবে । আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যারদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি আমাদের উপর যেন সহনশীল থাকে।
একই শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া বলেন, সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।এর মধ্যে বিভিন্ন আন্দোলন,অনশন, শাট ডাউন ইত্যাদি বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। সম্প্রতি শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাট ডাউন ঘোষণার কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হবে।যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম হতাশা জনক।