প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই
তীব্র গরমে প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে যাওয়া অনেকের জন্যই হয়ে উঠছে কষ্টকর। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ শহর কিংবা বাজারে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ভ্যাপসা আবহাওয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকির কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে এই গরমেও সুস্থ থাকা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সাইফ হোসেন খান বলেন, গরমে শরীরের পানির ঘাটতি দ্রুত তৈরি হয়, যা থেকে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা হিট-রিলেটেড সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাইরে বের হলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
১. পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখা
গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে দ্রুত পানি বের হয়, ফলে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই বাইরে বের হলে অবশ্যই নিজের সঙ্গে পানি রাখা জরুরি। এটি অবশ্যই নিরাপদ পানি হতে হবে, রাস্তার পাশের খোলা পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে জীবাণুর ঝুঁকি থাকে।
২. আরামদায়ক পোশাকে বের হওয়া
হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ঘাম কমাতে সহায়তা করে। এই গে অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহার না কিংবা ফুলহাতা পোশাক পরিধান থেকে এড়িয়ে চলুন।
৩. প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখা
বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে কিছু জরুরি জিনিস রাখা উচিত, যেমন ছাতা, সানস্ক্রিন, রুমাল বা টিস্যু, ছোট রিচার্জেবল ফ্যান ইত্যাদি। এগুলো তাপজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে এবং হঠাৎ পরিস্থিতিতে স্বস্তি দেয়।
৪. শরীরের যত্নে ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা
অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত মুছে ফেলতে হবে, এতে ত্বকের সমস্যা কমে। প্রয়োজনে ভেজা টিস্যু বা স্প্রে বোতল ব্যবহার করে মুখ সতেজ রাখা যেতে পারে। এসব ছোট অভ্যাস গরমে স্বস্তি বাড়াতে কার্যকর।
৫. পুষ্টিকর খাবার সঙ্গে রাখা
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই ফলমূল বা সহজে নষ্ট হয় না এমন হালকা খাবার সঙ্গে রাখা ভালো। এগুলো শরীরে শক্তি জোগায় এবং পানির ঘাটতি আংশিক পূরণে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রোদ থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের ওপর হঠাৎ চাপ পড়ে না।