ফিল্টারের বিশুদ্ধ পানিতেও মলবাহী ‘ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া’, নিরাপদ থাকতে কী করবেন?

২৪ মে ২০২৬, ০২:২৫ PM
ফিল্টার করা বিশুদ্ধ পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে ‘ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া’

ফিল্টার করা বিশুদ্ধ পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে ‘ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া’ © টিডিসি সম্পাদিত

আমরা ফিল্টার করা স্বচ্ছ পানি দেখলেই মনে করি, আরে এটা তো বিশুদ্ধ পানি। এটা খাওয়া একদমই নিরাপদ। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, ঘরে ব্যবহৃত রিভার্স অসমোসিস (আরও) ওয়াটার পিউরিফায়ারের পানি থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে বিপজ্জনক ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়া।

সম্প্রতি ভারতের চেন্নাইয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকেরা বলছেন, শুধু পানি ফিল্টার করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; ফিল্টারের রক্ষণাবেক্ষণ, পানির সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পদ্ধতির ওপরও নির্ভর করছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

জার্নাল অফ এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টালে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি মাদ্রাজ-এর গবেষকদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, চেন্নাইয়ের শত শত পরিবারে ব্যবহৃত আরও ফিল্টারের পানি থেকেও ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। 

ই-কোলাই কী?
ই-কোলাই সাধারণত মানব বা প্রাণীর মলজাত দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যাক্টেরিয়া। এটি ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি, জ্বর থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি জটিলতার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সংক্রমণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের লিক বা অসচেতনতার কারণে এই ব্যাকটেরিয়া খাবার পানিতে মেশে। এ ছাড়া আরও অনেকভাবেই মিশতে পারে।

কী বলছে গবেষণা?
গবেষকেরা চেন্নাইয়ের ২১৬টি পরিবারের ২৬২টি পানির নমুনা পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে আরও ফিল্টার দিয়ে পরিশোধিত ৮১টি নমুনায় পাওয়া যায় ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়া। অর্থাৎ প্রায় ৩১ শতাংশ ‘বিশুদ্ধ’ পানিই ছিল জীবাণুযুক্ত।

ফিল্টারের পানি কীভাবে দূষিত হচ্ছে?
‘আরও’ প্রযুক্তিতে উচ্চচাপের মাধ্যমে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ঝিল্লির ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে ক্ষতিকর ধাতু, রাসায়নিক ও অশুদ্ধি অপসারণ করা হয়। সাধারণভাবে এ প্রযুক্তিকে অত্যন্ত কার্যকর মনে করা হয়। তবে গবেষকেরা বলছেন, সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়। সমস্যার বড় অংশ তৈরি হচ্ছে ভুল ব্যবহারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ফিল্টার পরিষ্কার বা সার্ভিস না করা, অপরিষ্কার পানির পাত্রে বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ, একই বোতল বা জার বারবার না ধুয়ে ব্যবহার করা, ট্যাপ বা সিঙ্কের আশপাশে জীবাণুর উপস্থিতি, খোলা অবস্থায় পানি রাখা এবং ফিল্টারের মেমব্রেন ও পাইপলাইনে ‘বায়োফিল্ম’ বা জীবাণুর স্তর তৈরি হওয়াতে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন অতিরিক্ত চুল পড়ছে? আগেই যেসব বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

গবেষকেরা জানিয়েছেন, আরও ফিল্টার পানি থেকে রাসায়নিক দূষণ কমাতে কার্যকর হলেও, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এর ভেতরেই জীবাণুর আস্তানা তৈরি হতে পারে। এমনকি পরিশোধনের পর সংরক্ষণের ভুলেও আবার পানি দূষিত হয়ে যেতে পারে।

‘বিশুদ্ধ’ হলেও সব সময় স্বাস্থ্যকর নয়
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আরও প্রযুক্তি পানির উপকারী খনিজ ও প্রাকৃতিক আয়নও অনেক সময় অপসারণ করে দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শুধু আরও-নির্ভর পানি পান শরীরের জন্য সবসময় আদর্শ নাও হতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, যেসব পরিবার নিয়মিত ফিল্টার সার্ভিস করিয়েছে এবং পানির পাত্র পরিষ্কার রেখেছে, সেখানে জীবাণু দূষণের হার তুলনামূলক কম ছিল।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
এর থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফিল্টার সার্ভিস করানো, মেমব্রেন ও কার্টিজ সময়মতো পরিবর্তন করা, পানির জার বা বোতল নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা, বিশুদ্ধ পানি সবসময় ঢাকনা দেওয়া পাত্রে রাখা, পানির পাত্রে হাত না দেওয়ার মাধ্যমে এ ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে পানি ফুটিয়ে পান করানো নিরাপদ। (সূত্র: আনন্দবাজার)

সীতাকুণ্ডে পৃথক ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ দুজনের লাশ উদ্ধার
  • ২৪ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ঘোষণা আস…
  • ২৪ মে ২০২৬
পাবনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিয…
  • ২৪ মে ২০২৬
পাবনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিয…
  • ২৪ মে ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ওয়ালটন, আবেদন অভিজ্ঞতা ছাড়াই
  • ২৪ মে ২০২৬
‘লাইনে খড় থাকায় চাকা পিছলে ট্রেন বিলম্ব হয়েছে’
  • ২৪ মে ২০২৬