চোখ, কান আর মস্তিষ্কই ঠিক করে কী খাবেন—জেনে নিন স্বাস্থ্যকর ৭ কৌশল

১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ AM , আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ AM
খাবার খাওয়ার পরিমাণ কেমন হবে, তা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে

খাবার খাওয়ার পরিমাণ কেমন হবে, তা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে © এআই সৃষ্ট ছবি

অনেকেই মনে করেন কী খাবেন আর কতটুকু খাবেন, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার নিজের। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। খাবারের রং, প্যাকেট, গন্ধ, শব্দ, এমনকি যে প্লেটে খাবার রাখা হয়, সেটিও আমাদের খাওয়ার অভ্যাসকে প্রভাবিত করে। 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যবিজ্ঞান গবেষক চার্লস স্পেন্স বলেন, আমরা শুধু মুখ দিয়ে স্বাদ গ্রহণ করি না; খাবার উপভোগ করার ক্ষেত্রে চোখ, কান, নাক ও স্পর্শ সব ইন্দ্রিয়ই মোটামুটি কাজ করে।
গবেষকরা বলছেন, কিছু বিষয়ে সচেতন হলে খুব সহজেই স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।

১. রঙিন প্যাকেটের খাবার এড়িয়ে চলুন
দোকানে গেলে অনেক সময় আকর্ষণীয় রঙিন প্যাকেটের খাবারের দিকে আমাদের নজর আগে যায়। এসব প্যাকেট মস্তিষ্ককে খাবারটি খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। বিস্কুট, চিপস বা মিষ্টিজাতীয় খাবার যদি ঘরে রাখতেই হয়, তাহলে সেগুলো রঙিন প্যাকেটসহ খোলা জায়গায় না রেখে কোনো ঢাকনাযুক্ত বা অস্বচ্ছ পাত্রে রাখুন। এতে অকারণে খাওয়ার প্রবণতা কমবে।

২. চোখের সামনে যা আছে, সেটাই কিনবেন না
সুপারশপগুলো সাধারণত বেশি বিক্রিযোগ্য বা দামি পণ্যগুলো চোখের সাজিয়ে রাখে। আবার চেকআউট কাউন্টারের পাশে থাকে নানা ধরনের চকলেট, চিপস ও স্ন্যাকস। ফলে কেনাকাটার তালিকায় না থাকলেও অনেক সময় সেগুলো আমরা কিনে ফেলি। তাই কেনাকাটার সময় উপরের ও নিচের তাকেও দেখুন। অনেক স্বাস্থ্যকর খাবার সেখানেই থাকে।

৩. ভারী বাটি বা প্লেট ব্যবহার করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ভারী বাটি বা পাত্রে পরিবেশিত খাবারকে তুলনামূলক বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে করে। একইভাবে ভারী চামচ বা কাঁটাচামচ ব্যবহার করলেও খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা ভালো লাগে এবং খাবার শেষে বেশি সন্তুষ্টি পাওয়া যায়।

৪. খাবার সুন্দর সাজান
একই খাবার সুন্দরভাবে পরিবেশন করলে সেটি আরও সুস্বাদু মনে হয়। আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো সালাদ মানুষ বেশি পছন্দ করেছে এবং সেটির জন্য বেশি মূল্য দিতেও রাজি হয়েছে। তাই খাবারের প্লেটে বিভিন্ন রঙের শাকসবজি, সালাদ ও সবুজ পাতা যোগ করুন। এতে খাবার দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে, খেতেও তত আগ্রহ বাড়বে।

৫. খাওয়ার সময় গান শুনুন
খাওয়ার সময় কী শুনছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরগতির গান মানুষকে ধীরে খেতে সাহায্য করে। আর ধীরে খেলে সাধারণত কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন স্ক্রল করা বা টেলিভিশন দেখা এড়িয়ে চলা ভালো। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়ে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমে।

আরও পড়ুন: ‘মা, তোমার জন‍্য একটা গাড়ি কেনার নিয়ত করেছিলাম’, অস্ট্রেলিয়া বধের পর তাওহিদ

৬. খাবারে সবজির পরিমাণ বাড়ান
অনেকেই মনে করেন কম ক্যালোরি খেতে হলে খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে। কিন্তু গবেষণা বলছে, মানুষ সাধারণত খাবারের আয়তন দেখে তৃপ্তি অনুভব করে। তাই খাবারে ফুলকপি, পালং শাক বা অন্যান্য সবজি যোগ করে ক্যালোরি কমানো যায়, কিন্তু খাবারের পরিমাণ একই রাখা যায়। এতে পেটও ভরে, আবার ক্যালোরিও কম গ্রহণ করা হয়।

৭. মিষ্টির জন্য আলাদা পেট
খাবার খেয়ে পুরোপুরি পেট ভরে গেলেও মিষ্টি দেখলে আবার খেতে ইচ্ছা করে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেট ভরা থাকলেও শুধু কোনো ডেজার্ট দেখলে মস্তিষ্ক সেটি খেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অর্থাৎ সব সময় ক্ষুধার কারণে নয়, অনেক সময় চোখের সামনের খাবারই আমাদের খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করে।

সুতরাং স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা শুধু ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়। আমাদের চারপাশের পরিবেশ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। তাই ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আপনাকে অজান্তেই আরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করবে। (সূত্র: বিবিসি)

যে কারণে দিল্লি গিয়েছিলেন উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান
  • ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বমঞ্চে অপ্রতিরোধ্য গতি: আশার আলো দেখছে এশিয়ার ফুটবল
  • ১৫ জুন ২০২৬
ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ দেবে আরএফএল গ্রুপ, পদ ১০,…
  • ১৫ জুন ২০২৬
সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, মাদ্রাসা সুপার পলাতক
  • ১৫ জুন ২০২৬
শিকার হয়েছিলেন মানব পাচারের, জানেন না মা-বাবার পরিচয়ও, সেই …
  • ১৫ জুন ২০২৬
ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৬
  • ১৫ জুন ২০২৬
×