গরম খাবার ফুঁ দিয়ে খেলে কী ক্ষতি হয়?

০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৭ PM , আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৮ PM
গরম খাবারে ফুঁ

গরম খাবারে ফুঁ © সংগৃহীত

বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে চা, কফি কিংবা রান্না করা গরম খাবার অনেকেই ফুঁ দিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে খেয়ে থাকেন। এ ছাড়া অনেকের ব্যস্ততা না থাকা সত্ত্বেও গরম খাবার ফুঁ দিয়ে খেতে অভ্যস্ত। কিছু খাবার আছে যেগুলো গরম গরমই খেতে ভালোলাগে, ঠান্ডা হয়ে গেলে তেমন সুস্বাদু লাগে না। তাই খাবার খেতে নিয়ে ফুঁ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকের। তবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম খাবার বা পানীয় ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করা সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

ফুঁ দেওয়ার সময় মুখ থেকে ক্ষুদ্র লালার কণা ও বিভিন্ন অণুজীব বাতাসের সঙ্গে বের হয়ে খাবার বা পানীয়ের উপর পড়তে পারে। সাধারণ অবস্থায় এগুলো ক্ষতিকর না হলেও সর্দি, কাশি, ফ্লু বা মুখগহ্বরের কোনো সংক্রমণ থাকলে জীবাণু খাবারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

এ বিষয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দিবে না। এই হাদিসের পরিপ্রেক্ষিতে ফকীহগণ খাবার ও পানীয়র জিনিসে ফুঁ দেওয়াকে মাকরূহ বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, ঢালাওভাবে সব ধরনের ফুঁ দেওয়া নিষিদ্ধ নয়; বরং এমনভাবে ফুঁ দেওয়া যাতে উফ বা এ জাতীয় কোনো শব্দ তৈরি হয়, কেবল তেমন ফুঁ দেওয়াই নিষিদ্ধ।

ব্যাখ্যাকারগণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, ফুঁ দেওয়ার ফলে মুখের লালা বা থুতুর কণা খাবারে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা অন্য কোনো ভক্ষণকারীর মনে ঘৃণা বা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে।

আরও পড়ুন: হাঁচি-কাশিতে অতিষ্ঠ, আগের চেয়ে কেন বেশি হচ্ছে মৌসুমি অ্যালার্জি?

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক পিএইচ সাধারণত ৭. দশমিক ৩৫ থেকে ৭ দশমিক ৪৫-এর মধ্যে থাকে, যা সামান্য ক্ষারধর্মী। পিএইচ ৭-এর নিচে হলে সেটিকে অম্লধর্মী, ৭-এর উপরে হলে ক্ষারধর্মী এবং ঠিক ৭ হলে নিরপেক্ষ ধরা হয়। শরীরের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে রক্তের পিএইচ ৭ দশমিক ২-এর নিচে নেমে গেলে বা ৭ দশমিক ৬-এর ওপরে উঠে গেলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। 

এর ফলে মাথাব্যথা, বমিভাব, দুর্বলতা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রমে সমস্যা, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা, সংক্রমণ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের পিএইচ মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে ফুসফুস ও কিডনি। ফুসফুস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়, যা রক্তকে অতিরিক্ত অম্লীয় হওয়া থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে কিডনি মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অ্যাসিড ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ বের করে শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

এ কারণে গরম খাবার বা পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার ফলে সেটির অম্লত্ব সামান্য পরিবর্তিত হলেও তা শরীরের সামগ্রিক পিএইচের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে না।

শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল ক্যাম্পাস গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
‘খুনী’-আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা থাকছেন সিনেটে, বয়কটের ঘোষণা দিল…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
কনস্টেবলের মতোও লাগে না—ওসিকে যুবদল আহ্বায়ক
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলুন, বিসিবিকে শফিকুল
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
‘এইরকম এতিম দশায় ওপেন করা হইলো কেনো’—জুলাই জাদুঘর নিয়ে ফারু…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
বিএম কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সমঝোতা বৈঠক, শান্ত হলো ক্যা…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬