প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সাধারণ মানুষের ভাষায় ‘চোখ ওঠা’ নামে পরিচিত রোগটির চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম কনজাংকটিভাইটিস (Conjunctivitis)। এটি চোখের সাদা অংশ ও চোখের পাতার ভেতরের স্বচ্ছ আবরণ (কনজাংকটিভা)-এর প্রদাহ। এটি হতে পারে তিন কারণে— ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যালার্জি।
এর মধ্যে ভাইরাসজনিত কনজাংকটিভাইটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি সহজেই একজন থেকে আরেকজনে ছড়াতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?
‘চোখ ওঠা’ রোগের ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের দিকে তাকালেই চোখ ওঠে। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। চোখ ওঠা সাধারণত ছড়ায়—
আক্রান্ত চোখের পানি বা স্রাবের মাধ্যমে;
সেই স্রাব হাতে লেগে নিজের চোখে গেলে;
একই তোয়ালে, রুমাল, বালিশের কভার বা প্রসাধনী ব্যবহার করলে;
হাত না ধুয়ে চোখ স্পর্শ করলে।
অর্থাৎ চোখের দিকে তাকিয়ে নয়, সংক্রমিত স্রাবের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়।
লক্ষণ কী?
চোখ ওঠার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
চোখ লাল হয়ে যাওয়া;
চোখ দিয়ে পানি পড়া;
খচখচ বা জ্বালাপোড়া;
চোখে বালু পড়ার মতো অনুভূতি;
আঠালো স্রাব;
সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আটকে থাকা এবং
আলোতে অস্বস্তি।
প্রথমে কুসংস্কারকে না বলুন
চোখ ওঠা নিয়ে কুসংস্কারও কম নয়। চোখের দিকে তাকালেই চোখ ওঠে— এমন ধারণা তো আছেই, সংক্রমণ রোধে কালো বা রোদচশমা পরার পরামর্শ দেন অনেকে। তবে বাস্তবে চশমা সংক্রমণ ঠেকায় না। তবে আলোতে অস্বস্তি কমাতে এবং ধুলাবালি থেকে চোখকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে।
এ ছাড়া চোখে গরম ভাপ, লেবুর পাতা অথবা শিশুদের যৌনাঙ্গ চোখে ছোঁয়ালে বা দুধ, মধু ও গোলাপজল দিলে রোগ সেরে যায়— এমন ধারণাও অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এতে এর মাধ্যমে অন্যান্য জীবাণু চোখে গিয়ে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকেরা এমন কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
কী করবেন?
চোখ ওঠলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু নিয়ম মেনে চললেই সংক্রমণ কমানো সম্ভব।
বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
চোখে হাত দেবেন না।
চোখ ঘষবেন না।
নিজের তোয়ালে, রুমাল ও বালিশ আলাদা ব্যবহার করুন।
অন্যের প্রসাধনী বা আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
চিকিৎসকের দেওয়া আই ড্রপ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করুন।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে—
চোখে তীব্র ব্যথা;
ঝাপসা দেখা;
আলো সহ্য করতে না পারা;
চোখে আঘাতের ইতিহাস;
কর্নিয়ায় ক্ষতের সন্দেহ;
কয়েক দিনেও উন্নতি না হওয়া;
শিশু, নবজাতক বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
চোখ ওঠা সাধারণত প্রাণঘাতী রোগ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ভুল চিকিৎসা, কুসংস্কার ও গুজব অনেক সময় রোগকে জটিল করে তোলে। রোগের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় ভুল তথ্য। তাই চোখ লাল হলে গুজব নয়, চিকিৎসকের পরামর্শেই ভরসা করুন।