ঋতু পরিবর্তনের সময় অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন অনেকে © এআই সৃষ্ট ছবি
বসন্ত কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময় অ্যালার্জির সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অ্যালার্জির প্রকোপ যেন আগের তুলনায় বেশি এবং বেশি সময় ধরে থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুই ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বৈজ্ঞানিক গবেষণাও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বসন্তকাল আগেভাগে শুরু হচ্ছে, গাছপালার বৃদ্ধির সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বেশি পরিমাণে পরাগরেণু (পোলেন) বাতাসে ছড়াচ্ছে। আর এ কারণেই অ্যালার্জির মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি উপসর্গও তীব্র হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি অ্যালার্জি তখনই দেখা দেয় যখন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বাতাসে ভাসমান কোনো নিরীহ উপাদানকে ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে। তখন শরীরে হিস্টামিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখ চুলকানো কিংবা পানি পড়ার মতো উপসর্গ তৈরি করে।
গবেষকরা বলছেন, এটি কোনো এক বছরের ভিন্ন ঘটনা নয়। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বা স্থানীয় উদ্ভিদের পরিবর্তনের কারণে বছরভেদে কিছু ওঠানামা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাচ্ছে, পোলেন মৌসুম ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে এবং অ্যালার্জির তীব্রতাও বাড়ছে। এ প্রবণতা বিশ্বের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
জলবায়ুর পরিবর্তন বিশ্বজুড়েই প্রভাব ফেলছে। ফলে যেসব এলাকায় আগে অ্যালার্জির প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তবে সবার ক্ষেত্রে অ্যালার্জির মাত্রা এক নয়। বংশগত কারণ, হাঁপানির মতো পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যসমস্যা, বয়সের সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন, প্রতিদিন কতটা পোলেনের সংস্পর্শে আসছেন এবং বায়ুদূষণের মাত্রা এসব বিষয় অ্যালার্জির তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুজনিত এ পরিবর্তন পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তাই অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সতর্কতার বিকল্প নেই। অ্যালার্জি কমাতে বাড়িতে ধুলাবালি ও ধুলোকণার জীবাণু (ডাস্ট মাইট) নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করা, কার্পেটের ব্যবহার কমানো এবং আসবাবপত্রে কভার ব্যবহার উপকারী হতে পারে।
সপ্তাহে অন্তত এক বা দুইবার হেপা ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ঘর পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে ছত্রাকের বিস্তার রোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বাথরুমে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে ছোট থেকেই গড়তে হবে যে ৭ অভ্যাস
পোষা প্রাণীর লোম ও খুশকিও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি শোবার ঘরে প্রবেশ সীমিত রাখা ভালো। ঘরের ভেতরের গাছপালাও অনেক সময় ধুলা ও ছত্রাকের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইনডোর প্ল্যান্ট না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানালা খোলা কি নিরাপদ?
অনেকেই গরম থেকে বাঁচতে ঘরে প্রাকৃতিক বাতাস প্রবেশের জন্য জানালা খুলে রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোলেনের মাত্রা বেশি থাকলে জানালা খোলা অ্যালার্জি আক্রান্তদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এতে বাইরের পোলেন সহজেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জানালা বন্ধ রেখে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
দীর্ঘ হচ্ছে অ্যালার্জির মৌসুম
অনেকের কাছেই এখন মৌসুমি অ্যালার্জি আর কেবল নির্দিষ্ট ঋতুর সমস্যা নয়; বরং বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গবেষণার ফলাফলও সেই ধারণাকেই সমর্থন করছে। তাই অ্যালার্জির উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উত্তম। (তথ্যসূত্র:হেল্থলাইন)