পাবিপ্রবির গণতন্ত্র হল © টিডিসি
ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) চালু করা হয় ‘গণতন্ত্র হল’। তবে চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে হলটি। বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিম্নমানের খাবার, রান্নার সীমিত সুবিধা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ। এসব কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ফলে হল প্রশাসনের প্রতি তাদের অসন্তোষ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রত্যাশাও বাড়ছে সমানতালে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চালু হওয়া এই হলটিতে এখনো অনেক মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়ে গেছে। শুরু থেকেই জনবল সংকট নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে হলটি, যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক ব্যবস্থাপনায়।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, নানা সমস্যার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, হলে এখনো পূর্ণাঙ্গ রান্নার ব্যবস্থা চালু হয়নি। গ্যাস সংযোগের কাজ চলমান থাকলেও তা সম্পূর্ণ না হওয়ায় বাইরে থেকে খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে বেড়েছে দৈনন্দিন খরচ। এ ছাড়া রুম ও বাথরুমের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা তাদের প্রাইভেসির ওপর হস্তক্ষেপ করছে।
ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। শিক্ষার্থীদের দাবি, খাবার নিম্নমানের, এমনকি কখনো কখনো এতে পোকামাকড়ও পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রান্নার বিকল্প হিসেবে কোনো ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় তারা আরও বিপাকে পড়ছেন। এদিকে হলে ফ্রিজের ব্যবস্থা না থাকায় খাবার সংরক্ষণেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হলের ভেতরে ছোটখাটো খাবারের দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ডাইনিংয়ে নিয়মিত বিশেষ খাবারের আয়োজন না থাকায় একঘেয়েমি তৈরি হয়েছে। খাবারের খরচে কোনো ভর্তুকি না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক চাপেও পড়ছেন।
আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক সুদীপের সঙ্গে আরেক ‘ছাত্রীকে অন্তরঙ্গ’ দেখে ক্ষুব্ধ ছিলেন মিমো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামসুন নাহার নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন হলের রুমের সকেট নষ্ট হয়ে গেলেও দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। অফিসে জানালে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য অর্থ নেই।
রিক্তা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দু-তিন মাস ধরে পানির ফিল্টার অকার্যকর থাকায় আমরা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান না করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রুম ও ওয়াশরুমের সামনে ক্যামেরা বসানো আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। এত সমস্যার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হল প্রভোস্ট লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, গণতন্ত্র হলের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে। রান্নার সুবিধার জন্য গ্যাস লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা চালু করা হবে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, তবে তা এখনো চালু হয়নি এবং এটি প্রভোস্টের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এসব অভিযোগ কিছুটা অতিরঞ্জিত। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর ভিন্ন ভিন্ন রুচি থাকায় মতভেদ থাকতেই পারে। তারপরও আমরা নিয়মিত মানোন্নয়নের চেষ্টা করছি।’
লায়লা আরজুমান্দ আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে কিছু সুবিধা বাস্তবায়নে সময় লাগছে। তবে ভবিষ্যতে হলের ভেতরে দোকান, ফ্রিজসহ অন্যান্য সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।