কোলাজ ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ২০ দিন ধরে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। উপাচার্যের স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ আটকে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য হিসেবে একজন যোগ্য, সৎ, শিক্ষাবান্ধব ও দূরদর্শী ব্যক্তিকে দেখতে চান। শিক্ষার্থীদের মতে, নতুন ভিসি অবশ্যই একজন একাডেমিশিয়ান হবেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণা বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, তিনি ক্যাম্পাসে একজন যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ভিসি প্রত্যাশা করেন, যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ, দলীয়করণ বন্ধ ও দুর্নীতি দূরীকরণে কাজ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গণতান্ত্রিক উপায়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুন বলেন, পাবিপ্রবির জন্য এমন একজন উপাচার্য প্রয়োজন, যিনি শিক্ষার্থীবান্ধব ও মানবিক হবেন এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সবসময় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।
ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, তিনি এমন একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও দূরদর্শী ব্যক্তিকে ভিসি হিসেবে দেখতে চান, যিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান, গবেষণার মানোন্নয়ন, আধুনিক ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, সমাবর্তন আয়োজন ও ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রুমেল হোসেন বলেন, একজন ছাত্রবান্ধব ভিসি মানে এমন একজন প্রশাসক, যিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমান আচরণ করবেন এবং ন্যায় ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসন, সময়মতো ক্লাস-পরীক্ষা এবং দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
ইইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুত্তাকিন শুভ বলেন, নতুন ভিসি একাডেমিকভাবে উচ্চপ্রোফাইল হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। তিনি যেন দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান বলেন, তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে চান, যিনি শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, সুশাসন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একজন শক্তিশালী নেতৃত্বের উপাচার্য প্রয়োজন, যিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পি হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ল্যাব সংকট, পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্টের অভাব, আবাসন সমস্যা ও মানসম্মত খাবারের সমস্যা রয়েছে। নতুন উপাচার্য এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করবেন এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরি করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
নবীন শিক্ষার্থী মুশফিকা নওরিন অথৈ বলেন, তারা এমন একজন উপাচার্য চান, যিনি শিক্ষার্থী-বান্ধব ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন এবং ল্যাব, গবেষণা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও গবেষণামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবেন।
শিক্ষার্থীদের অভিমত, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন, গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একজন সৎ, দক্ষ, দূরদর্শী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।