চুল পড়ার পেছনে অনেক ধরনের কারণ থাকতে পারে © সংগৃহীত
অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা নিয়মিত চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নিয়মিত অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত হলেও অধিকাংশ মানুষ এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে অবগত নন। বালিশে, গোসলের সময় কিংবা চিরুনিতে অতিরিক্ত চুল পড়তে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
এসব রোধ করতে বাজার থেকে বিভিন্ন নকল পণ্য কিনে চুল পড়া রোধ করার চেয়ে আরও অতিরিক্ত সমস্যা সৃষ্টি করছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি চুল পড়তে থাকলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়া পরিচিত মুখ এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. নোবেল জানান, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেলকে ব্যাহত করে। ফলে ধীরে ধীরে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এছাড়া শরীরে আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি থাকলেও চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইরয়েডের সমস্যা বা নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) এর মতো হরমোনজনিত রোগও চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ। একইসঙ্গে নিম্নমানের শ্যাম্পু, অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার কালার এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্কাল্পের ক্ষতি করে চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়।
শুধু তাই নয়, চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘুম ও পানিরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি চুল ঝরার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি না খেলে স্কাল্প শুষ্ক হয়ে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চুল পড়া কমাতে ডা. নোবেলের ৫ পরামর্শ
১. সপ্তাহে অন্তত দুইবার নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা;
২. প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ডিম, ডাল ও বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা;
আরও পড়ুন: সাড়ে পাচঁ হাজার কোটির মিড ডে মিল প্রকল্পে প্রত্যাশা পূরণ না হলে বিষয়টি বিব্রতকর
৩. সালফেট-ফ্রি মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি শ্যাম্পু না করা;
৪. নিয়মিত থাইরয়েড ও আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা এবং
৫. নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চুল নিয়ে সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়। এর মধ্যে চুল কাটলে দ্রুত গজায় ধারণাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, চুলের বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে স্কাল্পের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও হরমোনের ভারসাম্যের ওপর।
এছাড়া বংশগত কারণে চুল পড়া বন্ধ করা যায় না এমন ধারণাও পুরোপুরি সত্য নয়। আধুনিক চিকিৎসায় বর্তমানে মিনোক্সিডিল ও পিআরপি থেরাপির মতো পদ্ধতিতে জেনেটিক হেয়ার লসও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।