সিসা তৈরির কারখানায় রাখা মালামাল © টিডিসি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ সিসা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে চুল্লিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী শান্তিপুর এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কারখানা থেকে সিসা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ২টি ব্লোয়ার এবং ১টি জেনারেটরের ডায়নামোসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসা গলানোর চুল্লির বৈদ্যুতিক সিস্টেমটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত এই কারখানায় পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হতো। এখান থেকে নির্গত বিষাক্ত অ্যাসিডের গন্ধ ও কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারি পোড়ানো ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কার্বন-মনোক্সাইড মানুষের শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া মেঘনা নদীর পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য নদী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
জানা যায়, এই অবৈধ কারখানার মূল মালিক বহিরাগত হলেও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। কারখানায় স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী এ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল।
নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’ গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানায়। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করায় উপজেলা প্রশাসন, এসি ল্যান্ড (বাঞ্ছারামপুর) এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।