প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট কল্যান্দী এলাকায় আরবি শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ফরহাদ (১০) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। পড়া না পারার অভিযোগে মারধরের সময় তার বাম হাতের আঙুল থেঁতলে যায়। বর্তমানে সে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত ফরহাদ কল্যান্দী এলাকার গাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা কামাল একজন দিনমজুর ও মা ফাতেমা বেগম গৃহিনী।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় আরবি শিক্ষক মুনিরা বেগম পড়া না পারার অজুহাতে ফরহাদকে (টেপ পেছানো) বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার বাম হাত গুরুতর জখম হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফরহাদের মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার স্বামী মুজিব মুন্সির কাছে চিকিৎসার খরচের সহযোগিতা চাইলে তারা নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। বাধ্য হয়ে তিনি মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবারও যোগাযোগ করলে মুজিব মুন্সি আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুজিব বলেন, আপনার বাচ্চা মারা গেলে আমাদের কী? বেঁচে থাকলে তো মামলা করবেন, তার চেয়ে মারা যাওয়াই ভালো।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মেম্বার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় বর্তমানে ফরহাদের চিকিৎসা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মুনিরা বেগমের স্বামী মুজিব মুন্সি বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি চিকিৎসার খরচও বহন করবো।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন