অস্ত্র মামলায় দুই মাস জেল খেটেও পেলেন পদোন্নতি © সংগৃহীত
অস্ত্র মামলার আসামি হয়ে দুই মাস জেল খেটেছেন। নিয়মিত আদালতে হাজিরাও দিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরি হারানোর কথা থাকলেও সেখানে উল্টো পেলেন পদোন্নতি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সহকারী সচিব আলমগীর খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমনই ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করে বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে যান তিনি। শুধু তাই নয়, কৌশলে বাগিয়ে নেন পদোন্নতিও, যা এতদিন রহস্যজনকভাবে চেপে রাখা হয়েছিল।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চউক সচিবের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এস্টেট অফিসার পদে থাকা মোহাম্মদ আলমগীর খানকে পদোন্নতি দিয়ে ‘সহকারী সচিব’ করা হয়। ওই দিন চউকের মোট ৩৬ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির তালিকা প্রকাশ করা হলেও, আলমগীর খানের অপরাধের বিষয়টি আড়াল করেই তাকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১১ সালে নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় র্যাবের একটি অভিযানে (চট্টমেট্রো-গ-১২-২২৬১) একটি গাড়ি আটক করা হয়। গাড়িটি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র্যাব-৭। এ ঘটনায় তৎকালীন র্যাব ডিএডি মো. আবদুল গাফফার বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে চউকের তৎকালীন এস্টেট অফিসার আলমগীর খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সুপারিশ করা হয়।
২০১২ সালের দিকে আলমগীর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। চলতি বছরের ২৪ মে-তে ওই মামলায় আদালতে হাজিরাও দেন তিনি।
২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা মোতাবেক, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় হাজতবাস কিংবা তদন্তে অভিযুক্ত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। এছাড়া আদালতে অপরাধ প্রমাণিত ও সাজা হলে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করার নিয়ম রয়েছে। তবে আলমগীর খানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি চউক কর্তৃপক্ষ। উল্টো তিনি তথ্য গোপন করে সম্প্রতি ১১তম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর খান বলেন, ‘মামলাটির বিষয়ে আমি খুব কষ্টে আছি। মূলত আমি একটি গাড়ি বিক্রি করেছিলাম, কিন্তু ক্রেতা নাম পরিবর্তন না করায় আমি ফেঁসে গেছি। এই কারণে আমাকে জেলও খাটতে হয়েছে। মামলাটি এখনো চলমান, আমি নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছি।’
অস্ত্র মামলার আসামিকে বরখাস্ত না করে উল্টো পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চউকের সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চউকের পূর্ণকালীন সদস্য মো. জামিলুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।’