জবি টিএসসি হিসেবে পরিচিত © টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) টিএসসি হিসেবে পরিচিত, প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত নির্ধারিত স্থানে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসা ২৫টি দোকানের ঈদ আনন্দ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চলমান সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, মানবিক দিক বিবেচনা করে পবিত্র ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছেন দোকানদাররা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর টিএসসিতে সকল দোকানদারদের পক্ষ থেকে মোঃ সিরাজ মিয়া স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
আবেদনপত্রে দোকানদাররা উল্লেখ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে টিএসসি নামক স্থানে বর্তমানে ২৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন চা, নাস্তা ও দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দোকান পরিচালনার মাধ্যমেই দোকানদাররা তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
আবেদনে জানান, তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার উদ্যোগের বিরোধী নন। বর্তমানে দেশজুড়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে শুভ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে তারা স্বাগত জানান। তবে হঠাৎ করে দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হলে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
দোকানদারদের পক্ষ থেকে মোঃ সিরাজ মিয়া বলেন, "আমরা কেউ ফুটপাতে বসতে চাই না। আমরা আপনাদের টিএসসি সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে আমাদের কিছুদিন সময় প্রয়োজন। আগামী ঈদের ছুটিতে আপনারা সংস্কার কাজ চালালে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।"
তিনি আরোও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। তাই, মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত আগামী পবিত্র ঈদুল আজহা পর্যন্ত তাদের সেখানে ব্যাবসা করার অনুমতি প্রদানের জন্য তারা আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জবি টিএসসির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে শুরু করার লক্ষ্যে বর্তমান দোকানদারদের আগামী ২৩ এপ্রিল দুপুর ১২.০০টার মধ্যে সকল প্রকার সরঞ্জাম নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।