বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

স্থায়ী অধ্যাপক নেই ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে, একজন দিয়ে চলছে ১২টি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
ইউজিসি লোগো  © ফাইল ফটো

দেশে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা চারটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী অধ্যাপক ছাড়াই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে (শিক্ষার্থী রয়েছে এমন) স্থায়ী অধ্যাপক সংকটের এই চিত্র ফুটে উঠেছে।

বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী অধ্যাপক না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গবেষণা ও প্রকাশনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কাজগুলো সাধারণত অধ্যাপকরাই সম্পন্ন করে থাকেন। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী অধ্যাপক শূন্যতার ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা এবং প্রকাশনা কার্যক্রম ব্যহত হবে।

ইউজিসর ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক পদে কোনো শিক্ষকই নেই। খণ্ডকালীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন ৯ জন। স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে রয়েছেন ১৭ জন এবং খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে আছেন ৬ জন।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে ২ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১০০ জন। তাদের মধ্যে খণ্ডকালীন অধ্যাপক ১৯ জন, স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক ৫ জন, খণ্ডকালীন সহযোগী অধ্যাপক ৬ জন, স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ২৩ জন আর খণ্ডকালীন হিসেবে আছেন ২ জন এবং স্থায়ী প্রভাষক রয়েছেন ৪৫ জন।

বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯৭ জন। তাদের মধ্যে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ৩ জন, স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক ৬ জন, স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ২৩ জন আর খণ্ডকালীন হিসেবে আছেন ৪ জন এবং স্থায়ী প্রভাষক রয়েছেন ৬১ জন।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৫০ জন শিক্ষকের মধ্যে স্থায়ী এবং খণ্ডকালীন অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে স্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছেন ৩ জন, খণ্ডকালীন কোনো সহযোগী অধ্যাপক নেই। সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ৪ জন, খণ্ডকালীন হিসেবে রয়েছেন একজন। এছাড়া স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি কর্মরত আছেন ২৬ জন আর খণ্ডকালীন হিসেবে রয়েছেন ১৬ জন।

একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশের ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছে। সেগুলো হলো সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি, কাদিরাবাদ, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি, দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী ইউনিভার্সিটি, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ