রুহুল কবির রিজভী
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী © ফাইল ছবি
গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁদের পরিবার যেন সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার পায়-রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
বিবৃবিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিনে আমি বিশ্বের সকল গুমের শিকার ব্যক্তি, তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার প্রত্যেক ব্যক্তিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘গুম কেবল একজন মানুষকে তাঁর পরিবার ও সমাজ থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং জীবনের অধিকারের ওপর এক নির্মম আঘাত। বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা, তাঁর ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে অসহনীয় যন্ত্রণা-তা কোনো পরিবারকে বহন করতে হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুম রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত স্তব্ধ করার এক ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার আজও জানে না, তাঁদের প্রিয়জন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন কিংবা আদৌ ফিরে আসবেন কি না। তাঁদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আমাদের জাতীয় বিবেকের সামনে এক গভীর দায় হয়ে আছে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার পাওয়া, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন: এক ছাতার নিচে নেই সব আঘাতের চিকিৎসা, মুমূর্ষু রোগীই দৌড়ান হাসপাতালে হাসপাতালে
‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা আর কখনো নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না; যেখানে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে জবাবদিহির আওতায়; এবং যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভিন্নতার কারণে কোনো নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিপন্ন হবে না’, যোগ করেন তনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আর কোনো গুম নয়, আর কোনো পরিবারকে অনন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে না। যাঁরা এখনও নিখোঁজ, তাঁদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করতে হবে। যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর যাঁরা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তাঁদের পরিবার যেন সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার পায়-রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গুমের শিকার সব ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সংহতি জানাচ্ছি। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি তাঁদের পাশে থাকবে।’