মাউশির লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রার্থী বাছাই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক সভা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি রাখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এতে কিছু সংশোধন এখনো বাকি রয়েছে। সংশোধন শেষ হলে খসড়াটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে বিদ্যমান ভর্তি নীতিমালা সংশোধন করে যেকোনো সময় এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হতে পারে।
এর আগে জানানো হয়েছিল, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে সময় থাকবে এক ঘণ্টা। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এক্ষেত্রে সময় থাকবে দুই ঘণ্টা। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ ধরে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করে আসছে সরকার। শুরুতে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি চালু ছিল। পরে করোনাভাইরাস মহামারির সময় অন্যান্য শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই শুরু হয়।
২০২৪ সালে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি ওঠে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা সংশোধনের বিষয়ে সভা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ওই সভায় লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়। তবে ভর্তি লটারি নাকি পরীক্ষার মাধ্যমে হবে—এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্রেণিভেদে ভর্তির জন্য লটারি ও পরীক্ষা—দুই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার।